খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজধানী ঢাকায় ধীরে ধীরে জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীতের প্রকোপ। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা কনকনে ঠান্ডা বাতাসের প্রভাবে গত কয়েক দিনের তুলনায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত ঢাকার অন্যতম নিম্ন তাপমাত্রা।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভোর থেকেই ঢাকার আকাশ ছিল ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন। সূর্যের আলো দেখা দিতে দেরি হওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সঙ্গে যুক্ত হয় উত্তর দিকের হিমেল বাতাস, যা নগরজীবনে বাড়তি অস্বস্তি তৈরি করেছে। অনেক এলাকায় ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যান চলাচলেও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শীতের এই ধারা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে ভোর ও রাতের দিকে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে সকাল ৭টায় প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আজ সকালে ঢাকায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও দিনের বেলায় তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে কুয়াশার কারণে সূর্যের তাপ পুরোপুরি পাওয়া নাও যেতে পারে। গতকাল রাজধানীতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শুধু রাজধানী নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও শীত ও কুয়াশার প্রভাব বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সারাদেশের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর ফলে সড়ক ও নৌপথে চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় চালক ও যাত্রীদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচলেও সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানানো হয়েছে। শীতের তীব্রতায় বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসহায় মানুষের কষ্ট বেড়েছে। ফুটপাতে বসবাসকারী ও ভাসমান মানুষের জন্য এই শীত হয়ে উঠেছে চরম দুর্ভোগের কারণ।
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১৯ মিনিটে এবং আগামীকাল শনিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিসেম্বরের শেষ ভাগে এসে উত্তরীয় বাতাসের গতি বাড়ার ফলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় কুয়াশা স্থায়ী হলে শীতকালীন ফসলের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
সব মিলিয়ে, শীতের এই হাড়কাঁপানো আবহাওয়া রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্পষ্ট প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।