খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ ও জোটবদ্ধ হওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন সমমনা আট দলের নির্বাচনী জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে এক ধরনের টানাপড়েনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি এই জোটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা এবং আসন বণ্টনের দাবি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে দরকষাকষি শুরু হয়েছে। তবে জোটের দায়িত্বশীল নেতারা এই পরিস্থিতিকে ‘টানাপড়েন’ বলতে নারাজ; বরং তারা এটিকে একটি বৃহৎ ঐক্যের প্রক্রিয়াসুলভ আলোচনা হিসেবে দেখছেন।
নির্বাচনী মাঠের বাস্তবতায় জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলো একক বা জোটগতভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তবে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ এবং অভিন্ন পাঁচ দফা দাবির ভিত্তিতে সাতটি ইসলামী ও সমমনা দল জামায়াতের সঙ্গে এক মঞ্চে আসে। নতুন করে এনসিপিসহ আরও কয়েকটি দল এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে চাওয়ায় আসন বণ্টনের সমীকরণটি জটিল হয়ে উঠেছে।
নিচে সমমনা দলগুলোর আসন দাবির একটি আনুমানিক চিত্র ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| দলের নাম | দাবিকৃত আসন সংখ্যা | বর্তমান অবস্থা ও লক্ষ্য |
|---|---|---|
| বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী | ১৮০ – ২০০ (প্রাথমিক লক্ষ্য ৩০০) | প্রায় এক বছর আগে ৩০০ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। |
| ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ | ১২০ | মাঠ জরিপের ভিত্তিতে বড় সংখ্যার দাবি। |
| বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস | ৩০ – ৫০ | জোটের প্রয়োজনে ছাড় দিতে রাজি। |
| অন্যান্য ৫ শরিক দল | ১০০ (সম্মিলিত) | বিডিপি, জাগপা, নেজামে ইসলামসহ অন্যান্যরা। |
| নতুন যুক্ত হতে আগ্রহী দল | অজ্ঞাত (অতিরিক্ত দাবি) | এনসিপিসহ আরও ৩টি ছোট দল। |
| মোট সম্মিলিত দাবি | ৩৪৮টি আসন | যা জাতীয় সংসদের মোট ৩০০ আসনের চেয়েও বেশি। |
আসন সমঝোতা নিয়ে দরকষাকষির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমদ। তিনি জানান, আলোচনার অগ্রগতি অনেক দূর হলেও আসন বণ্টনের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে কিছুটা স্থবিরতা রয়েছে। তবে বৃহত্তর স্বার্থে সবাই ছাড় দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ইসলামী আন্দোলনসহ রাজপথের মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি সন্তোষজনক এবং শিগগিরই এটি চূড়ান্ত রূপ পাবে।
জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সূত্র অনুযায়ী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ জানান, শরিকদের দাবি ৩৪৮টি আসনে পৌঁছালেও এটি মূলত তাদের প্রত্যাশার জায়গা থেকে বলা। বাস্তবতা বিবেচনায় এবং মাঠ জরিপের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে কয়েক দিনের মধ্যেই এই সংখ্যাটি ৩০০-এর নিচে নামিয়ে এনে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। দলগুলোর জমা দেওয়া মূল্যায়ন প্রতিবেদন বা মাঠ জরিপ এখন লিয়াজোঁ কমিটির টেবিলে রয়েছে, যেখানে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও ভোটপ্রাপ্তির সম্ভাবনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মতো বড় শক্তির মধ্যে আসন সমঝোতা সফল হলে দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় ধরনের ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। তবে ৩৪৮টি আসনের বিপরীতে ৩০০ আসনের বণ্টন প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কতটা নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কতিপয় সংবাদমাধ্যমে টানাপড়েনের খবর এলেও জোটের নেতারা আশাবাদী যে, উদার মানসিকতা নিয়ে তারা একটি কার্যকর নির্বাচনী মোর্চা গঠনে সক্ষম হবেন।