খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ও লেখক শহীদ ওসমান হাদির ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ভিডিও এবং পেজের প্রোফাইল ছবিটি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত থেকে এই পরিবর্তনটি নেটিজেনদের নজরে আসে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে নানামুখী বিতর্ক ও প্রশ্ন। বিশেষ করে ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রকাশের পর থেকেই তা ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী প্রতীক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) পেজটিতে সরেজমিনে প্রবেশ করে দেখা যায়, আলোচিত সেই ভিডিওটি আর টাইমলাইনে নেই এবং প্রোফাইল ছবির জায়গায় কেবল একটি ধূসর বৃত্ত দৃশ্যমান। এই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেক ব্যবহারকারী দাবি করছেন, এটি কোনো বাইরের চাপে বা কৌশলগত কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ‘জুলাই ঐক্য’ নামক একটি প্রভাবশালী ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া পোস্টে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী বিপ্লবী শহীদ ওসমান হাদির কবিতাটি কার ইশারায় সরানো হলো?
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিচে সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | বর্তমান অবস্থা ও বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| অদৃশ্য কনটেন্ট | শহীদ ওসমান হাদির আবৃত্তি করা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ভিডিও। |
| পেজের অবস্থা | প্রোফাইল ছবি অনুপস্থিত (রিমুভড বা ইনভিজিবল)। |
| শুরু হওয়ার সময় | ২৪ ডিসেম্বর (বুধবার) রাত থেকে। |
| সামাজিক প্রতিক্রিয়া | ‘জুলাই ঐক্য’সহ বিভিন্ন পেজের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা। |
| অফিসিয়াল ব্যাখ্যা | ফেসবুকের কারিগরি ত্রুটি (Technical Error)। |
| বর্তমান পদক্ষেপ | সমাধানের লক্ষ্যে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ। |
এই রহস্যময় পরিস্থিতির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমদ জানান যে, সরকারের পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রোফাইল ছবি বা ওসমান হাদির কবিতার ভিডিওটি ডিলিট করা হয়নি। তিনি একে ফেসবুকের একটি ‘কারিগরি ত্রুটি’ বা টেকনিক্যাল ইরর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, পেজটি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল টিম এবং ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
তবে সরকারি ভাষ্য সত্ত্বেও জনমনে সন্দেহ রয়েই গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যু এবং পরবর্তীতে তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তাপের কারণে এই ভিডিওটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছিল। ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতার কবিতাটি প্রধান উপদেষ্টার পেজ থেকে শেয়ার হওয়াকে অনেকেই বর্তমান সরকারের অবস্থান হিসেবে দেখেছিলেন। এখন হঠাৎ ভিডিওটি অদৃশ্য হয়ে যাওয়াকে কেউ কেউ ‘কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে হ্যাকিং বা সাইবার আক্রমণের ফল হিসেবেও ধারণা করছেন। ফেসবুকের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসার আগ পর্যন্ত এই ধোঁয়াশা কাটছে না।