খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) ক্রিকেটের চিরকালীন যে ধ্রুপদী লড়াইয়ের প্রত্যাশা ছিল, তা হয়তো পূর্ণ হয়নি, কিন্তু যা হয়েছে তাকে ক্রিকেট ইতিহাসের এক অনন্য মহাকাব্য বললে ভুল হবে না। মাত্র দুই দিনেরও কম সময়ে শেষ হওয়া বক্সিং ডে টেস্টে ইংল্যান্ডের জয় শুধু একটি জয় নয়, বরং দীর্ঘ দেড় দশকের বঞ্চনা আর অপেক্ষার অবসান। মেলবোর্নের সবুজ ঘাসে অস্ট্রেলিয়ার দর্প চূর্ণ করে ইংল্যান্ড যখন জয়ের উল্লাসে মাতল, তখন পরিসংখ্যানের পাতায় যুক্ত হলো একের পর এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডের সর্বশেষ টেস্ট জয় এসেছিল ২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি। মাঝখানের এই দীর্ঘ সময়কে আধুনিক প্রযুক্তির আয়নায় দেখলে বিস্ময় জাগে। ২০১১ সালে যখন ইংল্যান্ড জিতেছিল, তখন আইফোন ৪ ছিল বাজারের সবথেকে আধুনিক স্মার্টফোন। আর আজ যখন তারা পুনরায় জিতল, বিশ্ব ব্যবহার করছে আইফোন ১৭ প্রো-ম্যাক্স। ক্রীড়া জগতের পরিবর্তনের দিকে তাকালে দেখা যায়, নোভাক জোকোভিচ তখন মাত্র ১টি গ্র্যান্ড স্লামের মালিক ছিলেন, যা এখন দাঁড়িয়েছে ২৪-এ। বর্তমান ইংল্যান্ড দলের তরুণ তুর্কি জ্যাকব বেথেল, যিনি দ্বিতীয় ইনিংসে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেছেন, ২০১১ সালের সেই জয়ের সময় তিনি ছিলেন মাত্র ৭ বছরের এক শিশু।
অস্ট্রেলিয়া দলের উসমান খাজা ও স্টিভ স্মিথ—কেবল এই দুজন ক্রিকেটারই ২০১১ এবং ২০২৫ সালের এই দুই ঐতিহাসিক হারের সাক্ষী হয়ে রইলেন। মাঝখানের ৫৪৬৮ দিনের এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল এক ঝোড়ো টেস্টের মাধ্যমে।
| ক্যাটাগরি | পরিসংখ্যান ও বিশেষ তথ্য |
|---|---|
| মোট স্থায়ীকাল | ২ দিন (মোট ৮৫২ বল) |
| সর্বমোট উইকেট | ৩৬ উইকেট |
| অপেক্ষার প্রহর | ৫৪৬৮ দিন (২০১১-২০২৫) |
| গড় রান | প্রতি উইকেটে মাত্র ১৫.৮৮ রান |
| সর্বোচ্চ দর্শক (১ম দিন) | ৯৪,১৯৯ জন (নতুন বিশ্ব রেকর্ড) |
| ব্যাটসম্যানদের ফিফটি | ০ (কোনো ব্যাটসম্যান ৫০ রান করতে পারেননি) |
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসে মাত্র চতুর্থবার কোনো টেস্ট দুই দিনে শেষ হলো। বিস্ময়কর বিষয় হলো, চলতি অ্যাশেজ সিরিজেই এমন ঘটনা ঘটল দুবার। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুমের দীর্ঘ ১২৯ বছর পর ক্রিকেট বিশ্ব দেখল এক সিরিজে একাধিক টেস্ট দুই দিনে শেষ হওয়ার ঘটনা। ১৯৩২ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো টেস্টে একজন ব্যাটসম্যানও হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। ম্যাচের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিল ট্রাভিস হেডের ৪৬। ১৯৩২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬৫৬ বলের টেস্টের পর এটিই এমসিজিতে খেলা সবথেকে ক্ষণস্থায়ী টেস্ট, যা স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৮৫২ বল।
ম্যাচটি স্থায়ীত্বে সংক্ষিপ্ত হলেও উন্মাদনায় ছিল আকাশচুম্বী। বক্সিং ডেতে মেলবোর্নে প্রথম দিনেই হাজির হয়েছিলেন ৯৪,১৯৯ জন দর্শক, যা এক দিনে মাঠে বসে ক্রিকেট দেখার সর্বকালীন বিশ্ব রেকর্ড। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের ৯৩,০১৩ জন দর্শকের রেকর্ডটি এদিন ম্লান হয়ে যায়। দ্বিতীয় দিনেও ৯২,০৪৫ জন দর্শক মাঠে উপস্থিত থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ২০ উইকেট পতনের প্রথম দিন থেকে শুরু করে ৮ উইকেট হারিয়েও ইংল্যান্ডের জয়—এই বক্সিং ডে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অদ্ভুত এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।