খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় এক ভয়াবহ ঘটনার মধ্যে পড়েছেন আবু সুফিয়ান (২৫)। জানা গেছে, গত ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় উমরপুর ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, হামলায় তার দুই হাত ও একটি পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন।
আহত আবু সুফিয়ান শ্যামপুর এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনা পূর্বে একটি পারিবারিক বিবাদ থেকে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তার ফুফাতো ভাইয়ের মেয়ের সঙ্গে পাশের এলাকার মোস্তাক নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা পালিয়ে বিয়ে করলে মেয়ের বাবা আদালতে মামলা করেন। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে জামিন পেয়ে মেয়েটি ফিরে আসে এবং সুফিয়ানের বাড়িতে বসবাস শুরু করে। কিছুদিন পরে মোস্তাক আবারও মেয়েটিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে সুফিয়ান বাধা দেন। এর ফলে তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও কথাকাটাকাটি হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শাহ আলম (২২) ও আবদুর রাজ্জাক (২৩) নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত রাজ্জাক মাদরাসার শিক্ষক এবং উমরপুর ঘাট এলাকায় একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, যদিও তারা জামায়াতের কোনো পদ-পদবীতে নেই, তবুও দলটির মিছিল ও সভা-সমাবেশে অংশ নিতেন।
গ্রেফতারকৃতদের তথ্য (শ্যামপুর এলাকা)
| নাম | বয়স | পেশা / পরিচয় | গ্রেফতারের স্থান | সম্পর্ক |
|---|---|---|---|---|
| শাহ আলম | ২২ | স্থানীয় ব্যক্তি | শ্যামপুর খোচপাড়া | জামায়াত সমর্থক |
| আবদুর রাজ্জাক | ২৩ | মাদরাসা শিক্ষক, দোকানদার | উমরপুর ঘাট | জামায়াত সমর্থক |
আহত সুফিয়ান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং হামলায় আরও কয়েকজনও জড়িত ছিলেন। তার বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে ও ১২–১৫ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গোপাল চন্দ্র মণ্ডল জানিয়েছেন, দুইজন আসামি বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছে। শিবগঞ্জ থানার ওসি হুমায়ন কবির বলেন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় জানা না গেলেও হামলার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান।
জামায়াতের শিবগঞ্জ উপজেলা শাখা জানিয়েছে, তাদের নাম উস্কানিমূলকভাবে সংবাদের মাধ্যমে জড়ানো হয়েছে। তারা দাবি করেছে, আহত ব্যক্তি নিজেই এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারী। দলের অভিযোগ, ঘটনা সঠিকভাবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবি রয়েছে।
এ ঘটনার কারণে স্থানীয় শ্যামপুর ইউনিয়নে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে জামায়াতের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা তাদের দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয় এবং ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত বিবাদ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে।