খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহক এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারবে। দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও ঋণ খেলাপির কারণে তীব্র আর্থিক সংকটে থাকা এই ব্যাংকগুলো একীভূত হয়ে নতুন করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ হিসেবে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বর্তমানে পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের হিসাব সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে গ্রাহকরা চেক বই ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে একবারে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন সম্ভব হবে। তবে ধাপে ধাপে সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যারা দুই লাখ টাকার কম জমা রেখেছেন, তারা একবারেই সম্পূর্ণ টাকা তুলতে পারবেন। যারা বেশি জমা রেখেছেন, তারা প্রতি তিন মাসে এক লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। ৬০ বছরের বেশি বয়সী ও গুরুতর অসুস্থ গ্রাহকের ক্ষেত্রে এই সীমা শিথিল রাখা হয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় রাজধানীর সেনাকল্যাণ ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। নতুন ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার থেকে আসছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা। অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।
এই একীভূতকরণের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমান পাঁচ ব্যাংকের মোট আমানত ও ঋণ সম্পর্কিত তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| ব্যাংকের নাম | শাখা সংখ্যা | উপশাখা সংখ্যা | এজেন্ট আউটলেট | এটিএম বুথ | মোট আমানত (কোটি টাকা) | মোট ঋণ (কোটি টাকা) |
|---|---|---|---|---|---|---|
| এক্সিম ইসলামী ব্যাংক | 152 | 120 | 88 | 130 | — | — |
| সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক | 168 | 145 | 102 | 150 | — | — |
| ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক | 110 | 98 | 87 | 140 | — | — |
| গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক | 165 | 135 | 112 | 280 | — | — |
| ইউনিয়ন ব্যাংক | 165 | 200 | 222 | 275 | — | — |
| মোট | 760 | 698 | 511 | 975 | ১,৪২,০০০ কোটি | ১,৯৩,০০০ কোটি |
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, নতুন রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং অতিরিক্ত টাকা উত্তোলনের চাপও কমবে। ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা এবং কার্যকর আর্থিক পরিবেশ নিশ্চিত হবে।