খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
রাশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি বিলাসবহুল বাসভবন লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্রেমলিন। সোমবার এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। এই হামলার জন্য সরাসরি ইউক্রেনকে অভিযুক্ত করা হলেও কিয়েভ তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার ঘটনা চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
হামলার প্রেক্ষাপট ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ জানান, রাশিয়ার নভগোরোদ অঞ্চলে অবস্থিত পুতিনের বাসভবনটি লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন হামলা চালায়। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই হামলা প্রতিহত করেছে। হামলার সময় প্রেসিডেন্ট পুতিন সেখানে অবস্থান করছিলেন কি না, সে বিষয়ে মস্কো কোনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি।
হামলা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান:
| বিষয় | তথ্য ও বিবরণ |
|---|---|
| হামলার লক্ষ্যস্থল | প্রেসিডেন্ট পুতিনের বাসভবন (নভগোরোদ অঞ্চল)। |
| হামলার সময় | সোমবার (সকাল)। |
| ভূপাতিত ড্রোনের সংখ্যা | ৯১টি (রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী)। |
| ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি | কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। |
| অভিযুক্ত পক্ষ | ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী। |
শান্তি আলোচনার ওপর প্রভাব ও লাভরভের হুশিয়ারি
সের্গেই লাভরভ এই হামলাকে “অত্যন্ত উস্কানিমূলক” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, পুতিনের বাসভবনে এই আক্রমণের ফলে শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হতে পারে। যদিও রাশিয়া আলোচনা থেকে এখনই সম্পূর্ণ সরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি, তবে লাভরভ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই হামলার জবাবে রুশ বাহিনী বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি মনে করেন, ইউক্রেন এই ধরণের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধানের পথকে জটিল করে তুলছে।
কিয়েভের প্রতিক্রিয়া ও জেলেনস্কির বক্তব্য
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার সাথে তাঁর দেশের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি এটিকে রাশিয়ার ” সাজানো নাটক” ও “মনগড়া বক্তব্য” বলে অভিহিত করেছেন। জেলেনস্কির মতে, ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তাঁর অত্যন্ত সফল একটি বৈঠকের পর রাশিয়া বিশ্ববাসীর মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) জেলেনস্কি লিখেছেন, “রাশিয়া আবারও তাদের পুরোনো কৌশল অবলম্বন করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের সাথে আমাদের কূটনৈতিক সাফল্যের অর্জনগুলোকে খাটো করে দেখাতেই তারা এই বিপজ্জনক অভিযোগ তুলছে।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপ
এদিকে, হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উপায় নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে একটি ‘ইতিবাচক ফোনালাপ’ হয়েছে। ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যেখানে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানোর আশা তৈরি হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার এই দাবি ভূ-রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন মস্কোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।