খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ আজ শোকমগ্ন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এক শোকবার্তায় বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ও সাহসী ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতি তাঁর শোকবার্তায় উল্লেখ করেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার অবদান আমাদের দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির মুহূর্তে আমি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ ও অনুসারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “দেশবাসীকে মরহুমার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দু’বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল বহু চ্যালেঞ্জপূর্ণ, যেখানে তিনি প্রায়শই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।
নিচের টেবিলে তাঁর প্রধান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| সময়কাল | পদবী / ভূমিকা | প্রধান ঘটনা ও অবদান |
|---|---|---|
| ১৯৯১-১৯৯৬ | প্রধানমন্ত্রী | নির্বাচিত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সংস্কার |
| ২০০১-২০০৬ | প্রধানমন্ত্রী | অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার |
| বিএনপি চেয়ারপারসন | রাজনৈতিক দল | দলের নেতৃত্ব, নির্বাচনী পরিকল্পনা, গণতান্ত্রিক আন্দোলন |
| সার্বক্ষণিক | রাজনীতিতে প্রভাব | রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, নারী নেতৃত্বে উদাহরণ সৃষ্টি |
রাজনীতিক ও সাধারণ জনগণ তাঁর সাহসী নেতৃত্ব, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং আপসহীন নীতি স্মরণ করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম বাংলাদেশে রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় চিহ্নিত করেছে।
রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করেছেন।