খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের নির্বাচনী মাঠে এবার এক ব্যতিক্রমী ও আলোচিত দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক একই আসন থেকে, তবে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই পরিবারের দুই প্রজন্মের এই রাজনৈতিক মুখোমুখি অবস্থান স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কার্যালয়ে বাবা ও ছেলে উভয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পরই বিষয়টি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
আব্দুল হান্নান মাসউদ জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) প্রার্থী হিসেবে ‘একতারা’ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
| নাম | রাজনৈতিক দল | প্রতীক | আসন |
|---|---|---|---|
| আব্দুল হান্নান মাসউদ | জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) | শাপলা কলি | নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) |
| আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক | বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) | একতারা | নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) |
একই আসনে বাবা–ছেলের প্রার্থী হওয়ার খবরে হাতিয়াজুড়ে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। কেউ একে দেখছেন নবীন নেতৃত্ব বনাম প্রবীণ অভিজ্ঞতার প্রতীকী লড়াই হিসেবে, আবার কেউ বলছেন—এটি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, যেখানে একই পরিবারের প্রভাব ভিন্ন পথে কাজে লাগানোর চেষ্টা রয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে কৌতূহল ও জল্পনা তুঙ্গে।
এ বিষয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তবে ভোটের রাজনীতিতে এটি তার প্রথম বাস্তব অভিজ্ঞতা। তিনি জানান, ভোটার হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়নি। নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে তার বাবা একজন প্রবীণ, অভিজ্ঞ ও সমাজে পরিচিত মুখ। সেই কারণেই বাবাকে নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি নিজেই উৎসাহ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “ভোটের মাঠে বাবার অভিজ্ঞতা থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। আমি শাপলা কলি প্রতীকে আমার রাজনৈতিক আদর্শ তুলে ধরব, আর বাবার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।”
সব মিলিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের এই বাবা–ছেলের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুধু নির্বাচনী হিসাবেই নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায়ও একটি ব্যতিক্রমী অধ্যায় হয়ে উঠেছে। ভোটের ফলাফল যাই হোক, এই লড়াই স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন আলোচিত থাকবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।