খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে পৌষ ১৪৩২ | ৩১ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করে পাঁচটি বড় ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করে গঠিত হতে যাচ্ছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার জন্য একটি বিস্তারিত রেজল্যুশন স্কিম বা নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে, যেখানে আমানতকারীদের সুরক্ষা ও ব্যাংকের মূলধন কাঠামো নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই নীতিমালার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের আমানতের একটি অংশকে সরাসরি ব্যাংকের শেয়ারে রূপান্তর করা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকটির মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমানতকারীদের এই শেয়ারগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে, যা ব্যাংকটির মালিকানা কাঠামোতে নতুনত্ব নিয়ে আসবে।
নতুন এই ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি মজবুত করতে বিশাল অংকের মূলধনের সংস্থান রাখা হয়েছে। নিচে শেয়ার বিন্যাসের একটি বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| শেয়ারের ধরণ | বিনিয়োগকারী/অংশীজন | শেয়ারে রূপান্তরের পরিমাণ (টাকা) | মূলধনের উৎস |
|---|---|---|---|
| ক-শ্রেণি | সরকার | ২০,০০০ কোটি | সরকারি তহবিল |
| খ-শ্রেণি | ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ | ৭,৫০০ কোটি | স্থায়ী আমানত থেকে রূপান্তর |
| গ-শ্রেণি | অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারী | ৭,৫০০ কোটি | স্থায়ী আমানত থেকে রূপান্তর |
| মোট মূলধন | সম্মিলিত উৎস | ৩৫,০০০ কোটি | অনুমোদিত মূলধন ৪০,০০০ কোটি |
নীতিমালা অনুযায়ী, নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। অন্যদিকে, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী আমানতের সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা শেয়ারে রূপান্তরিত হবে। একইভাবে, ব্যাংকবহির্ভূত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী আমানত থেকে আরও সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা শেয়ারে পরিণত হবে।
তবে সাধারণ আমানতকারী এবং স্পর্শকাতর খাতের আমানত রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ ছাড় দিয়েছে। নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দাতব্য হাসপাতাল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড, জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি দূতাবাসগুলোর আমানতের ক্ষেত্রে এই শেয়ার রূপান্তরের নিয়ম কার্যকর হবে না। অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠানের আমানত পূর্বের মতোই সংরক্ষিত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শেয়ার ধারণ বা মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো অস্পষ্টতা বা জটিলতা সৃষ্টি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এই একীভূতকরণের ফলে আমানতকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে এটি ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট দূর করতে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।