খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মালাইকা আরোরা দীর্ঘদিন ধরেই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মুখে। বিশেষ করে অভিনেতা ও প্রযোজক আরবাজ খানের সঙ্গে ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর বিচ্ছেদের পর থেকে, তার দ্বিতীয় বিয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি মালাইকা নিজেই এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
মালাইকা ও আরবাজ ২০১৬ সালে আলাদা হন। এই দাম্পত্য থেকে তাদের এক সন্তান, আরহান খান, যিনি বর্তমানে ২২ বছর বয়সী। বিচ্ছেদের পরও দুজনই সন্তানের উপর সমানভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং যৌথভাবে পিতৃত্ব ও মাতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে মালাইকা তার যাত্রা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “সম্পর্ক সবসময় পরিকল্পিত পথে এগোয় না। বিচ্ছেদের পর সমাজ ও পরিবারের থেকে বহু প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি, তবে আমি কোনো সিদ্ধান্তে অনুশোচনাশীল নই।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা দুজনেই আমাদের সম্পর্ক রক্ষা করার চেষ্টা করেছি, সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করেছি, এমনকি আমাদের যাত্রা একসাথে চালিয়ে যাওয়ার কথাও ভেবেছি। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা বুঝতে পেরেছি যে আমাদের সম্পর্ক আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।”
মালাইকা মানসিক শান্তি ও ব্যক্তিগত সুখকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “অনেকে আমাকে স্বার্থপর বলেছেন, তবে নিজের সুখ ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা অপরিহার্য। আগে নিজেকে খুশি করতে হবে, তারপর অন্যদের সন্তুষ্ট করার কথা ভাবা যায়।”
দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে মালাইকা জানান, এটি তাঁর জীবনের অগ্রাধিকার নয়, তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে বিবেচনা করা হতে পারে। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর জন্য বিবাহ কোনও জরুরি প্রয়োজন নয় এবং ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত তিনি নিজের পরিস্থিতি ও মানসিক প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে নেবেন।
নিচের টেবিলে মালাইকা আরোরার ব্যক্তিগত জীবনের মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রাক্তন স্বামী | আরবাজ খান |
| বিবাহের সময়কাল | ১৮ বছর (প্রায় ২০০২–২০১৬) |
| সন্তান | আরহান খান (২২ বছর) |
| বিবাহবিচ্ছেদ | ২০১৬ |
| বর্তমান অবস্থা | পৃথক; যৌথভাবে পিতৃত্ব পালন |
| দ্বিতীয় বিয়ের অবস্থান | বর্তমানে অগ্রাধিকার নয়; ভবিষ্যতে সম্ভাবনা |
মালাইকার এই স্বচ্ছ বক্তব্য তাঁর ভক্ত ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেছে যে, ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তগুলো সব সময় ব্যক্তির নিজস্ব সুখ ও মানসিক শান্তির ওপর নির্ভর করে। বর্তমান সময়ে তিনি নিজের আত্মিক শান্তি, সুখ ও পেশাগত জীবনের উপর মনোযোগী, যা তার আত্মসচেতন ও আত্মবিশ্বাসী দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে।