খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম গত কয়েক দিন ধরে কিশোরী-তরুণীদের স্টিক ঠুকের গর্জনে মুখরিত ছিল। ক্রিকেট ও ফুটবলের পর এবার মেয়েদের হকি এক নতুন সাফল্যের গল্প লিখছে। দেশের নারী হকি এখন আর কিছু সীমিত ঘরোয়া টুর্নামেন্টের মধ্যে আটকে নেই, বরং বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়েছে।
দেশের ১৮টি জেলা চারটি অঞ্চলে ভাগ করে আয়োজিত ব্র্যাক ব্যাংক ‘অপরাজেয় আলো’ নারী হকি টুর্নামেন্ট আজ সমাপ্ত হয়েছে। ফাইনালে ময়মনসিংহকে নিয়ে গড়া ‘জোন–৪’কে ৮–০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জোন-৫: বিকেএসপি, যা দেশের নারী হকির একমাত্র প্রশিক্ষণ ‘কারখানা’ হিসেবে পরিচিত। ফাইনালে বিকেএসপির কণা আক্তার একাই করেছেন চারটি গোল।
এই টুর্নামেন্টে ৩৫২ জন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন। অনেকের জন্য এটি ছিল হকি স্টিক ও বলের সঙ্গে প্রথম পরিচয়। অনেকে প্রথমবার ঢাকায় এসে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের টার্ফে খেলার সুযোগ পেয়েছেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অংশগ্রহণকারী জেলা | ১৮টি (ফেব্রুয়ারির ডেভেলপমেন্ট কাপে ১৪টি) |
| অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় | ৩৫২ জন |
| ফাইনাল স্কোর | বিকেএসপি ৮ – ০ জোন-৪ |
| সর্বোচ্চ গোলদাতা | অর্পিতা পাল (২২ গোল) |
| সেরা খেলোয়াড় | আইরিন আক্তার (বিকেএসপি) |
| সেরা গোলকিপার | মহুয়া (রাজশাহী) |
| উদীয়মান তারকা | অপূর্ব আক্তার জান্নাতুল |
বিকেএসপি টিমের দাপট ছিল একতরফা। ৫ ম্যাচে তারা মোট ৬৫টি গোল করেছে, গড়ে ম্যাচপ্রতি ১৩টি গোল, এবং কোনো গোল হজম করতে হয়নি। এর পেছনে মূল কারণ হলো বিকেএসপির উন্নত অনুশীলন সুবিধা। মেয়েরা নিয়মিত টার্ফে খেলার সুযোগ পান, কোচদের তত্ত্বাবধানে কঠোর অনুশীলন করেন, যা জেলা পর্যায়ের মেয়েদের জন্য পাওয়া যায় না।
ফাইনালে দুটি গোলসহ সর্বোচ্চ ২২ গোল করে অর্পিতা পাল সেরা গোলদাতা হয়েছেন। তারকা খেলোয়াড় আইরিন আক্তার বলেন, “বিকেএসপিতে খেলার পর হকিতে ভালোবেসে ফেলেছি। আমরা নারী হকির ভবিষ্যৎ।”
পরিচালকরা মনে করেন, এই ধরনের টুর্নামেন্ট মেয়েদের জন্য শক্তিশালী মঞ্চ তৈরি করছে। যদিও বাংলাদেশে বয়সভিত্তিক হকি খেলা হচ্ছে, পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দল এখনো গঠিত হয়নি। তবে আগামী মার্চে এশিয়ান হকি ফেডারেশন কাপের জন্য জাতীয় দল গঠিত হলে এই টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফাইনাল শেষে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও রেফাত উল্লাহ খান আশ্বাস দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই আয়োজন আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে।
নারী হকির এই উত্থান দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্ত খুলছে—যেখানে মেয়েরা শুধু খেলে নয়, স্বপ্ন দেখছে এবং নতুন দিশা গড়ে তুলছে।