খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর বর্বরোচিত দমন-পীড়নের বিচার নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যেসব থানা এলাকায় আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবং এর তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুলিশ বাহিনীর যেসব সদস্য আন্দোলন দমনে সরাসরি গুলি চালানো বা আদেশের সাথে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের নাম ও পদবি শনাক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন স্পষ্ট করেছে যে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কমান্ডিং লেভেলের কাউকেই এই বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হবে না। রিফাত রশিদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কোনো প্রকার টালবাহানা সহ্য করা হবে না; এবার সরাসরি আইনি একশন হবে।”
ছাত্র আন্দোলনের এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে এলো যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া বেগবান করেছে। উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মাঠ পর্যায়ের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেই নতুন করে ওসি ও এসপিদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনের নেতৃত্বাধীন পক্ষ থেকে উত্থাপিত তিন দফা দাবি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচির সারসংক্ষেপ নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | দাবির বিষয়বস্তু | সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ |
|---|---|---|
| ১ | মাহদী হাসানের মুক্তি | হবিগঞ্জের নেতা মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি এবং শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির প্রত্যাহার। |
| ২ | দায়মুক্তি অধ্যাদেশ | ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত গণ-অভ্যুত্থানকারীদের কর্মকাণ্ডের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি। |
| ৩ | সুরক্ষা ও কমিশন | অভ্যুত্থানে জড়িত সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থায়ী কমিশন গঠন। |
রিফাত রশিদ তাঁর বক্তব্যে দ্বিতীয় কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তির অর্ডিন্যান্স নিশ্চিত করার জন্য আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করা হবে এবং এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া ২০০৯ সাল থেকে সশস্ত্র বাহিনীতে যারা পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পদায়নের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জানান, গ্রেপ্তারকৃত মাহদী হাসিব কেবল জামিন পেয়েছেন, কিন্তু তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ অন্য কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের উপস্থিতিতে এই সংবাদ সম্মেলনে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয় যে, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষায় অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং বিপ্লবীদের সুরক্ষা প্রদানই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য।