খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নগ্ন সামরিক হস্তক্ষেপ এবং দেশটির নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণের ঘটনায় বাংলাদেশে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন রুখে দেওয়ার ডাক দিয়ে আগামী ১০ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। গত ৪ জানুয়ারি (রবিবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। এতে অংশ নেন বামপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানকে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, আন্তর্জাতিক সব আইন ও শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র যে পদ্ধতিতে একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানকে তুলে নিয়ে গেছে, তা বিশ্ব রাজনীতিতে এক ভয়াবহ কালো অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
নেতৃবৃন্দের মতে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য গণতন্ত্র রক্ষা নয়, বরং ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করা। মার্কিন এই হামলায় ইতিমধ্যে অর্ধশতাধিক সাধারণ মানুষের প্রাণহানির সংবাদে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। সমাবেশ থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীরব ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়, এমন একটি অমানবিক ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সরকারের নিশ্চুপ থাকা রহস্যজনক ও হতাশাজনক।
ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক সংকট ও যুক্তফ্রন্টের দাবিসমূহ নিচের সারণিতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | বর্তমান পরিস্থিতি ও যুক্তফ্রন্টের পর্যবেক্ষণ | দাবিসমূহ |
|---|---|---|
| প্রেসিডেন্টের অবস্থা | নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মার্কিন বাহিনী কর্তৃক অপহরণ। | অবিলম্বে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে সসম্মানে ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানো। |
| মার্কিন ভূমিকা | খনিজ সম্পদ দখলের উদ্দেশ্যে সামরিক আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন। | ভেনেজুয়েলায় সকল প্রকার মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। |
| হতাহতের তথ্য | অভিযানে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু ও নাগরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত। | প্রতিটি হত্যার বিচার এবং সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন রুখে দেওয়া। |
| বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান | সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়নি। | অবিলম্বে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে মার্কিন দপ্তরে প্রতিবাদলিপি পাঠানো। |
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা বিশ্বকে এক ভয়াবহ অস্থিরতা ও যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সচেতন ও প্রগতিশীল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা নাজমুল হক প্রধান ও আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতন বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, কোনো বিদেশি শক্তির সেখানে খবরদারি করার অধিকার নেই।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে তোপখানা রোড, পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা ও বায়তুল মোকাররম এলাকা প্রদক্ষিণ করে। মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সভা থেকে আগামী ১০ জানুয়ারির কর্মসূচি সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। যুক্তফ্রন্টের দাবি, অবিলম্বে ভেনেজুয়েলা থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে এবং অপহৃত প্রেসিডেন্টকে মুক্তি দিতে হবে।