খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মাঝিরঘাট এলাকায় ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে দুই নৌযানের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় ‘এমভি টিটু-৮’ নামক একটি লাইটারেজ জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নদীতে আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে যখন নদীপথ ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল, ঠিক তখনই এই দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়। তবে অত্যন্ত স্বস্তির বিষয় এই যে, জাহাজে থাকা সকল নাবিক ও ক্রু সদস্য নিরাপদে তীরে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন, ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
নিমজ্জিত জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত বড় মাদার ভ্যাসেল থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে তীরে ফিরছিল। শিল্পগ্রুপ আবুল খায়ের কোম্পানির জন্য আমদানিকৃত স্ক্র্যাপ লোহা (রড তৈরির কাঁচামাল) বহন করছিল এই লাইটারেজটি। সদরঘাট নৌ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গভীর রাতে জাহাজটি যখন জেটিতে ভেড়ানোর জন্য ঘোরানো হচ্ছিল, তখন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় অন্য একটি লাইটারেজ জাহাজের সাথে এর জোরালো সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে এমভি টিটু-৮ জাহাজের ডান পাশের মাঝ বরাবর বিশাল একটি ফাটলের সৃষ্টি হয়। সেই ফাটল দিয়ে দ্রুত পানি প্রবেশ করতে শুরু করলে জাহাজটি নিমজ্জিত হতে থাকে।
নিচে এই নৌ-দুর্ঘটনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| জাহাজের নাম | এমভি টিটু-৮ (লাইটারেজ) |
| পণ্যের ধরণ | স্ক্র্যাপ লোহা (রড তৈরির কাঁচামাল) |
| গন্তব্য ও মালিকানা | আবুল খায়ের কোম্পানি |
| দুর্ঘটনার স্থান | মাঝিরঘাট এলাকা, কর্ণফুলী নদী |
| দুর্ঘটনার প্রধান কারণ | ঘন কুয়াশা ও সীমিত দৃষ্টিসীমা |
| ক্রু সদস্যের সংখ্যা | ১৩ জন (সবাই নিরাপদ) |
| বর্তমান অবস্থা | আংশিক নিমজ্জিত ও পণ্য খালাস চলমান |
দুর্ঘটনার সময় জাহাজটিতে মোট ১৩ জন ক্রু সদস্য কর্মরত ছিলেন। জাহাজের ফাটল দিয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করলে তারা তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন এবং তীরের কাছাকাছি হওয়ায় দ্রুত নিরাপদে সরে আসতে সক্ষম হন। নৌ পুলিশ জানিয়েছে, জাহাজটি মাঝিরঘাটের আনলোডিং পয়েন্টের খুব কাছে ডুবে যাওয়ায় এটি পুরোপুরি তলিয়ে যায়নি। এর ফলে জাহাজে থাকা মূল্যবান স্ক্র্যাপ লোহা উদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত রোববার বিকেল পর্যন্ত স্থানীয় শ্রমিকদের সহায়তায় নিমজ্জিত জাহাজটি থেকে পণ্য খালাসের কাজ পুরোদমে চলছিল।
শীতকালীন মৌসুমে কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় কুয়াশার কারণে প্রায়শই নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হয়। বিশেষ করে রাতে এবং ভোরে দৃষ্টিসীমা অনেক সময় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে, যা নৌ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এমভি টিটু-৮ এর নাবিকরাও পুলিশকে জানিয়েছেন যে, কুয়াশার কারণে সামনের নৌযানটি তারা সময়মতো শনাক্ত করতে পারেননি। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌ পুলিশ এই ঘটনার পর নদীপথে যাতায়াতকারী সকল নৌযানকে ফগ লাইট ব্যবহার এবং বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা প্রদান করেছে। এই দুর্ঘটনার ফলে নদীর স্বাভাবিক চ্যানেল চলাচলে বড় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে বন্দর সূত্র নিশ্চিত করেছে।