খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তরুণ আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত প্রধান অভিযুক্ত মো. জোবায়ের হোসেন (২৯) সোমবার আদালতে হাজির হয়ে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দিতে জোবায়ের স্বীকার করেছেন যে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দফায় প্রচণ্ড মারধরের কারণেই আইনজীবী নাঈম কিবরিয়ার মৃত্যু হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১ জানুয়ারি রাতে। নাঈম কিবরিয়া তাঁর প্রাইভেট কার নিয়ে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেন। মোটরসাইকেল আরোহীরা তাঁকে থামার সংকেত দিলেও তিনি গাড়ি না থামিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জোবায়ের হোসেনসহ আরও ৫-৬ জন দুই-তিনটি মোটরসাইকেলে করে আইনজীবী নাঈমের গাড়িকে ধাওয়া করেন। বসুন্ধরা আই ব্লকের ৭ নম্বর রোডের প্রবেশমুখে মোটরসাইকেল দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে তাঁর গতিরোধ করা হয়। গাড়ি থেকে নাঈমকে নামিয়ে প্রথম দফায় এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক অন্য একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে পুনরায় আক্রমণ চালানো হয়।
হত্যাকাণ্ড ও আইনি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত তথ্য ও বিবরণ |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তি | নাঈম কিবরিয়া (পাবনা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী) |
| প্রধান আসামি | মো. জোবায়ের হোসেন (২৯) (র্যাব-১ কর্তৃক আটক) |
| গ্রেপ্তারের স্থান ও তারিখ | ৪ জানুয়ারি, গুলশান এলাকা, ঢাকা |
| ঘটনার স্থান | ৭ ও ১৫ নম্বর সড়ক, আই ব্লক, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা |
| হামলার ধরণ | দুই দফায় শারীরিক নির্যাতন ও গণপিটুনি |
| মামলার বাদী | গোলাম কিবরিয়া (নিহতের পিতা) |
| আইনি ধারা | ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি |
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতের শুনানিতে জানান যে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জোবায়েরসহ অন্য আসামিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রথম দফায় ৭ নম্বর রোডে মারধরের পর নাঈমকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে আই ব্লকের ১৫ নম্বর রোডের পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পূর্ব থেকেই উপস্থিত থাকা আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দুই দফার এই পৈশাচিক নির্যাতনে নাঈম নিস্তেজ হয়ে পড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে নাঈমের খালাতো ভাই রাকিবুল ইসলাম তাঁকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত বাকি আসামিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। জোবায়েরের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নাঈম কিবরিয়া পাবনা জেলা জজ আদালতের একজন উদীয়মান আইনজীবী ছিলেন এবং তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে আইনি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং আসামি যাতে জামিনে মুক্ত হয়ে পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য জোবায়েরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।