খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
পটুয়াখালীর পর্যটননগরী কুয়াকাটায় একটি ভাড়া বাসা থেকে আরিফা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সোমবার (রাত সাড়ে ১১টা) কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুস সাত্তারের মালিকানাধীন একটি ভাড়াটিয়া বাসার একটি কক্ষ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী রিফাত হাওলাদারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বামীর বক্তব্যে অসংলগ্নতা লক্ষ্য করায় তাকে আটক করা হয়। মামলার প্রস্তুতি ও তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিহত আরিফা আক্তার বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার টরকি বন্দরের বারোগতি এলাকার খালেক হাওলাদারের মেয়ে। তার স্বামী রিফাত একই এলাকার মৃত আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে তারা নিজ এলাকা ছেড়ে কুয়াকাটায় এসে বসবাস শুরু করেন। প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হওয়ায় দুই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত ছিল বলে জানা গেছে। জীবিকার তাগিদে রিফাত কুয়াকাটার একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি করতেন।
পুলিশ ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা যায়, দম্পতির মধ্যে মাঝেমধ্যেই পারিবারিক কলহ দেখা দিত। ঘটনার রাতে হঠাৎ কান্নাকাটির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে কক্ষের ভেতরে আরিফাকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সে সময় স্বামী রিফাত কক্ষের ভেতরেই ছিলেন এবং কান্না করছিলেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। স্বামীর কথাবার্তায় অসংলগ্নতা থাকায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রতিবেশীদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনাস্থল | কুয়াকাটা পৌরসভা, ৩ নম্বর ওয়ার্ড |
| সময় | সোমবার রাত সাড়ে ১১টা |
| নিহত | আরিফা আক্তার (২২) |
| সম্পর্ক | স্বামী–স্ত্রী |
| স্বামীর পেশা | রেস্তোরাঁ কর্মী |
| পুলিশি পদক্ষেপ | স্বামী আটক, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন |
| তদন্তের অবস্থা | আলামত সংগ্রহ, জিজ্ঞাসাবাদ চলমান |
পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত আরও জোরদার করা হবে। এলাকাবাসী দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।