খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় মুক্তিপণের দাবিতে এক কীটনাশক ব্যবসায়ীর কলেজপড়ুয়া ছেলেকে অপহরণের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অপহৃত যুবকের নাম মাহিদ হোসেন (২০), যিনি উপজেলার মহাজনপুর ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আমির উদ্দিনের ছেলে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কোমরপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে এই দুঃসাহসিক অপহরণের ঘটনাটি ঘটে। অপহরণকারীরা মাহিদের পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে মাহিদ তাঁর দুই বন্ধু রিয়াদ ও জুনায়েদকে সঙ্গে নিয়ে কোমরপুর বাজার থেকে নিজ গ্রাম বাবুপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁরা যখন কোমরপুর এলাকার মশিউর রহমানের ইটভাটার নিকটবর্তী নির্জন স্থানে পৌঁছান, তখন ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারী তাঁদের গতিরোধ করে। অস্ত্রধারীরা তিনজনকেই জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি অন্ধকার ফসলের মাঠের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ আটকে রাখার পর মাহিদের দুই বন্ধু রিয়াদ (আজিজুলের ছেলে) ও জুনায়েদকে (ইলিয়াসের ছেলে) ছেড়ে দিলেও মাহিদকে নিজেদের জিম্মায় রেখে অজ্ঞাত স্থানের দিকে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা।
অপহরণ ও বর্তমান পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
| তথ্যের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| অপহৃত ব্যক্তির নাম | মাহিদ হোসেন (২০) |
| পিতার নাম ও পেশা | আমির উদ্দিন (কীটনাশক ব্যবসায়ী) |
| ঘটনার সময় ও তারিখ | মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি (রাত ৯:০০ ঘটিকা) |
| ঘটনাস্থল | মশিউর রহমানের ইটভাটার নিকটবর্তী এলাকা, কোমরপুর |
| মুক্তিপণের দাবি | ৩০ লাখ টাকা (পরিবারের দাবি অনুযায়ী) |
| উদ্ধার অভিযান | মুজিবনগর থানা পুলিশের চিরুনি অভিযান চলমান |
| বর্তমান অবস্থা | নিখোঁজ এবং পরিবারের চরম উৎকণ্ঠা |
মাহিদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অপহরণের কিছু সময় পরেই তাঁদের কাছে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে এবং মাহিদকে জীবিত ফেরত পেতে হলে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। মুক্তিপণের এই বিপুল অংকের টাকা দাবির পর থেকে মাহিদের বাবা আমির উদ্দিনসহ পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, কোনো পূর্ব শত্রুতা নয় বরং মুক্তিপণের উদ্দেশ্যেই সংঘবদ্ধ কোনো অপরাধী চক্র এই অপহরণ ঘটিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক দ্রুত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি প্রত্যক্ষদর্শী দুই বন্ধু রিয়াদ ও জুনায়েদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ শোনেন এবং অপহরণকারীদের সম্ভাব্য গতিপথ শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। ওসি জানান, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং অপহৃত যুবককে উদ্ধারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “অপরাধীদের শনাক্ত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।” এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।