খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রশ্নে হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে, আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্পও আলোচনায় রয়েছে—এমন ইঙ্গিতই মিলেছে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হলে আর্কটিক নৌপথ, সামরিক নজরদারি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
হোয়াইট হাউস জানায়, এই লক্ষ্য অর্জনে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক—সব ধরনের বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, প্রয়োজনে মার্কিন সামরিক বাহিনীকেও ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা ন্যাটো জোটের ভেতরে বড় ধরনের অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র রাষ্ট্র, ফলে এমন পদক্ষেপ নিলে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের মধ্যে বিভাজন আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউরোপীয় নেতারাও ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আর্কটিক অঞ্চল এবং গ্রিনল্যান্ড সেখানকার জনগণের মালিকানাধীন, বাইরের কোনো শক্তির একতরফা হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। ২০১৯ সালে তাঁর প্রথম মেয়াদেই বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য জোরদারের ঘোষণা এবং লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের ওপর চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই আগ্রহ আবারও জোরালো হয়েছে। ট্রাম্পের যুক্তি, গ্রিনল্যান্ডের আশপাশে রাশিয়া ও চীনের জাহাজ চলাচল বাড়লেও ডেনমার্কের এককভাবে তা মোকাবিলার সক্ষমতা সীমিত।
তবে গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় জনগণ ভিন্ন মত পোষণ করে। বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ হলেও সেখানে বসবাস করেন মাত্র প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ। তারা বারবার জানিয়েছে, নিজেদের স্বায়ত্তশাসন ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রাখতে চায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে আগ্রহী নয়।
নিচের টেবিলে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে মূল তথ্য ও অবস্থানগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ভৌগোলিক অবস্থান | আর্কটিক অঞ্চল, উত্তর আটলান্টিক |
| রাজনৈতিক অবস্থান | ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল |
| জনসংখ্যা | আনুমানিক ৫৭ হাজার |
| যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান | জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন |
| ইউরোপ ও কানাডার মত | অঞ্চলটি স্থানীয় জনগণের মালিকানাধীন |
| সম্ভাব্য প্রভাব | ন্যাটো জোটে টানাপোড়েন, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা |
সব মিলিয়ে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যু শুধু একটি ভূখণ্ডগত প্রশ্ন নয়; এটি আর্কটিক অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য, বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কোন পথে এগোয়, তা এখন বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয়।