খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে পৌষ ১৪৩২ | ৭ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাষ্ট্রপতি নতুন ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন, যার অধীনে গাছে পেরেক বা অন্য কোনো ধাতব বস্তু দিয়ে ক্ষতি করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মাধ্যমে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক উৎপাদন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে গাছের ক্ষতি করা, বিশেষত পেরেক বা ধাতব বস্তু ব্যবহারের মাধ্যমে, কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ বিধান লঙ্ঘন করলে আদালত সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানার ব্যবস্থা করতে পারবে।
যদি কর্তন নিষিদ্ধ বা বন অধিদপ্তরের বিপদাপন্ন ঘোষিত কোনো বৃক্ষ কাটা হয়, তবে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা এবং ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের শাস্তি ধার্য করা যাবে। তবে অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য থাকবে।
অধ্যাদেশে বনভূমির জরিপ ও রেকর্ড, বন সংরক্ষণের দায়িত্ব এবং শিল্প-কারখানার সুবিধার্থে বনভূমি বিনিময় সংক্রান্ত বিধানও নির্ধারণ করা হয়েছে। বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়া কোনও সরকারি, সামাজিক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটা যাবে না। অনুমতি প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর কাছে গাছের প্রজাতি, সংখ্যা, উচ্চতা, এবং কর্তনের কারণসহ নির্ধারিত ফরম পূরণ করা বাধ্যতামূলক। আবেদন প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মৌজা রিজার্ভে গাছ কর্তন বিষয়ে ‘চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাকস রেগুলেশন, ১৯৯০’-এর নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অনুমোদনপ্রাপ্ত ক্ষেত্রে কর্তিত বৃক্ষের সমপরিমাণ নতুন গাছ রোপণের বাধ্যবাধকতা থাকবে।
বনভূমির জরিপ ও রেকর্ড সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলী নিম্নে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিধান |
|---|---|
| কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষ | সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা ও ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন |
| অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষ | সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা |
| পেরেক বা ধাতব বস্তু দিয়ে ক্ষতি | সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা |
| সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মাধ্যমে অপরাধ | সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/প্রতিনিধি ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা জরিমানা |
| জরিপ ও রেকর্ড | বনভূমি বন বিভাগের নামে রেকর্ড এবং জেলা প্রশাসকের নাম রেকর্ডে সংরক্ষণ |
| বনভূমি বিনিময় | শিল্প সংস্থার বনভূমি বিনিময়ে একই এলাকায় দ্বিগুণ বন সংলগ্ন জমি সংরক্ষণ |
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বনভূমি শর্তসাপেক্ষে বিনিময় করা যাবে, তবে বন সংলগ্ন দ্বিগুণ জমি সরকার সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করবে। এছাড়া ঝড়ে পড়া, রোগাক্রান্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ বৃক্ষ কর্তনে আগাম অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
নতুন এই অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কর্তন নিষিদ্ধ ও অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের তালিকা গেজেটে প্রকাশ এবং প্রয়োজনমতো হালনাগাদ করতে হবে। বন অধিদপ্তরকে এই বিধান প্রচারের পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।