খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
লিওনেল মেসির ফুটবলজীবন আজ সাফল্যের এক উজ্জ্বল দলিল। ক্লাব ফুটবলে সম্ভাব্য প্রায় সব শিরোপাই জেতা হয়ে গেছে, জাতীয় দলের জার্সিতে এসেছে বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকার মতো মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বও। তবু এই পরিপূর্ণতার আড়ালে আছে গভীর এক মানসিক ভাঙনের গল্প—এমন এক রাত, যখন পরাজয়ের ভারে মেসির নিজের ভাষায় “মরে যেতে ইচ্ছা হয়েছিল।”
আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় স্ট্রিমিং চ্যানেল লুজু টিভিকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মেসি ফিরে গেছেন প্রায় এক দশক পেছনে। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনাল, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর পেনাল্টিতে পরাজয়—আর সেই শুটআউটে মেসির নিজের শটটিই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এই একটি মুহূর্ত যেন তাঁর কাঁধে চেপে বসে সব ব্যর্থতার বোঝা।
ফাইনাল হারের পর টানা দ্বিতীয়বার কোপা আমেরিকার শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার। সমালোচনার তীব্রতা তখন চরমে—জাতীয় দলের হয়ে বড় কিছু জিততে না পারার দায় গিয়ে পড়ে মেসির কাঁধেই। এই চাপ আর হতাশার মধ্যে তিনি হঠাৎই জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। পরে মেসি নিজেই স্বীকার করেছেন, সেই সময় মানসিকভাবে তিনি এতটাই বিপর্যস্ত ছিলেন যে গভীর অনুশোচনায় ডুবে গিয়েছিলেন।
তবে এই গল্প এখানেই শেষ নয়। কয়েক মাস পর অবসর ভেঙে আবার আকাশি-সাদা জার্সিতে ফেরেন মেসি। এরপর সময় যেন তাঁর পক্ষেই কথা বলে। ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা জয়, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক শিরোপা—সব মিলিয়ে তিনি সমালোচনার জবাব দিয়েছেন মাঠের পারফরম্যান্সেই।
| বছর | প্রতিযোগিতা | ফলাফল | গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| ২০১4 | বিশ্বকাপ | রানার্সআপ | প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল |
| ২০১5 | কোপা আমেরিকা | রানার্সআপ | পেনাল্টিতে হার |
| ২০১6 | কোপা আমেরিকা | রানার্সআপ | অবসর ঘোষণা |
| 2021 | কোপা আমেরিকা | চ্যাম্পিয়ন | প্রথম বড় শিরোপা |
| 2022 | বিশ্বকাপ | চ্যাম্পিয়ন | ক্যারিয়ারের শিখর |
| 2024 | কোপা আমেরিকা | চ্যাম্পিয়ন | ধারাবাহিক সাফল্য |
এই দীর্ঘ যাত্রায় ‘হাল না ছাড়ার’ দর্শনটাই মেসিকে আলাদা করেছে। ছোটবেলায় হরমোনজনিত সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই, জাতীয় দলে শুরুর ব্যর্থতা—সব বাধাই তিনি অতিক্রম করেছেন অধ্যবসায় দিয়ে। এখন ৩৮ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে অবসর প্রসঙ্গ এলেও মেসি পুরোপুরি মাঠ ছাড়ার তাড়ায় নেই। ২০২৮ মৌসুম পর্যন্ত ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তি রয়েছে তাঁর।
খেলা ছাড়ার পর কোচিং নয়, বরং ক্লাব গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন মেসি। ইতিমধ্যেই বন্ধু লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে উরুগুয়েতে দেপোর্তিভো এলএসএম নামে একটি ক্লাবের সহ-মালিক তিনি। শূন্য থেকে একটি কাঠামো গড়ে তুলে তরুণদের সুযোগ করে দেওয়াই তাঁর ভবিষ্যৎ ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু।
পরাজয়ের রাতে যে মানুষটি ভেঙে পড়েছিলেন, তিনিই আজ প্রমাণ—অন্ধকার যত গভীরই হোক, অধ্যবসায় থাকলে আলো ঠিকই ফিরে আসে।