খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে পৌষ ১৪৩২ | ১৩ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানের ফার্স প্রদেশে কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য ভাঙচুর করে বিক্ষোভকারীরা এক নতুন উত্তেজনার আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চলমান বিক্ষোভের ১১তম দিনে বিক্ষোভকারীরা সাবেক কুদস ফোর্স প্রধান কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন।
কাসেম সোলাইমানি ২০২০ সালে ইরাকের শহর বাইদায় এক মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন। তার মৃত্যু পরবর্তী সময়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তার মৃত্যু এবং পরবর্তীতে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে এই বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পাচ্ছে।
বুধবার রাতের বিক্ষোভে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সংযোগ বন্ধ করে দেয়। তবুও জনগণ তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে থামেনি।
ইস্ফাহান শহরে বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সংশ্লিষ্ট একটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিক্ষোভকারীরা পুলিশ বাহিনীর মোটরসাইকেল, গভর্নর অফিস, রাষ্ট্রীয় টিভি ভবন এবং সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি জ্বালিয়ে দিয়েছেন।
ইরানের শেষ শাহের সন্তান রেজা পেহলেভি বৃহস্পতিবার বিক্ষোভে অংশ নিতে আহ্বান জানান। এ সময় জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান প্রদান করে।
বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে, যেখানে ব্যবসায়ীরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন। এরপর এটি দ্রুত তীব্র রূপ ধারণ করে।
বিক্ষোভ সংক্রান্ত তথ্য (সংক্ষেপে)
| তারিখ | স্থান | ঘটনার ধরন | লক্ষ্যবস্তু | উপস্থিত জনসংখ্যা (আনুমানিক) |
|---|---|---|---|---|
| ২৮ ডিসেম্বর | তেহরান, গ্র্যান্ড বাজার | ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, প্রতিবাদ শুরু | জীবনযাত্রার ব্যয় | কয়েকশো |
| ৭ জানুয়ারি | ফার্স প্রদেশ | ভাস্কর্য ভাঙচুর | কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য | শতাধিক |
| ৭ জানুয়ারি | ইস্ফাহান | আগুন দেওয়া, রাষ্ট্রীয় ভবন লক্ষ্যবস্তু | টিভি ভবন, গভর্নর অফিস, পুলিশ মোটরসাইকেল | কয়েকশো |
| ৮ জানুয়ারি | তেহরান ও অন্যান্য শহর | রাস্তায় বিক্ষোভ, সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান | সরকার, সুপ্রিম লিডার | হাজারো |
এই বিক্ষোভ দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সরকার দীর্ঘ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে তা আরও বড় আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।