খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে পৌষ ১৪৩২ | ৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম, সিন্ডিকেট, শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে। সিন্ডিকেটের এই সুপারিশ অনুযায়ী, শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম হবে শহীদ ওসমান হাদি হল এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম হবে বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল।
উল্লেখযোগ্য যে, এই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতারা উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপির মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন। সিন্ডিকেট সভায় ডাকসু নেতাদের দাবি অনুযায়ী হল দুটির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপাচার্যের কাছে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ প্রথম আলোকে এই বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
সিন্ডিকেট সভায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চার জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, কেন তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হবেন না, তা জানতে তাদের নোটিশ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দুই জন শিক্ষককে সতর্ক করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
নিচের টেবিল থেকে চার শিক্ষক ও দুই সতর্কীকৃত শিক্ষকের নাম এবং পদবী সম্পর্কে তথ্য দেখা যাচ্ছে:
| শিক্ষকের নাম | পদবী | পদক্ষেপ |
|---|---|---|
| অধ্যাপক জিনাত হুদা | সমাজবিজ্ঞান বিভাগ | শোকজ |
| অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন | সমাজবিজ্ঞান বিভাগ | শোকজ |
| অধ্যাপক সাদেকা হালিম | সমাজবিজ্ঞান বিভাগ | শোকজ |
| অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান | সমাজবিজ্ঞান বিভাগ | শোকজ |
| অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন | সমাজবিজ্ঞান বিভাগ | সতর্কীকরণ |
| অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী | সমাজবিজ্ঞান বিভাগ | সতর্কীকরণ |
প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, “সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় চার্জশিট গঠন এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুটি হলের নাম পরিবর্তনের সুপারিশও সভায় অনুমোদিত হয়েছে।”
এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী হলগুলোর নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন সংবিধানমূলক ও নৈতিক দিকটি তুলে ধরা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে এবং প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।