খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে পৌষ ১৪৩২ | ১১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ তিতাস গ্যাসফিল্ড থাকা সত্ত্বেও শহরে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দৈনন্দিন রান্না ও অন্যান্য গৃহস্থালি কাজের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে তারা দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যায় রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শহরের কাউতলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে নারী, পুরুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা হাতে হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে গ্যাস সরবরাহ অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। বক্তারা বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসফিল্ড থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ করা হয়, কিন্তু এখানকার মানুষ নিয়মিত গ্যাস পাচ্ছে না। আমরা সময়মতো বিল পরিশোধ করি, তবুও রান্নার জন্য দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসহীন থাকতে হয়। শীত মৌসুমে সমস্যা আরও তীব্র হয়।”
অবস্থান কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির আহমেদ, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এ বি এম মুছা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ হাফিজ উল্লাহ, ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুখপাত্র আরিফ বিল্লাহ, মো. সাবের ও তরী বাংলাদেশের সদস্য সোহেল রানা ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন দে এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তারা দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সকাল, দুপুর ও রাতে গ্যাস সরবরাহ অপ্রতুল। কাউতলি এলাকার গৃহিণী সুলতানা বেগম বলেন, “সকালে গ্যাস থাকে না, দুপুরে মাত্র আধা ঘণ্টা, রাতে এক ঘণ্টা।” ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন যোগ করেন, “হোটেল-রেস্টুরেন্টের ব্যবসা মার খাচ্ছে। সিলিন্ডারে নির্ভর করতে গিয়ে খরচ বেড়েছে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসফিল্ড সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অবস্থিত এলাকা | ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা |
| গ্যাস উৎপাদনের অনুপাত | দেশের মোট গ্যাসের প্রায় ৩০% |
| সক্রিয় কূপ সংখ্যা | ২৭টি |
| প্রধান সমস্যা | স্থানীয় সরবরাহ দুর্বল, চাহিদার তুলনায় কম |
| প্রভাবিত জনগোষ্ঠী | শহরের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও গৃহিনী |
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, চাহিদার তুলনায় কম গ্যাস এবং অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। স্থানীয়দের দাবি, গ্যাস সরবরাহে স্থায়ী সমাধান আনা না হলে শহরের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে।