খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে পৌষ ১৪৩২ | ১৩ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশে গ্রাহকপ্রতি ১০টির বেশি মোবাইল সিমকার্ড বন্ধ করার ফলে দেশের ৮৮ লাখেরও বেশি সিমকার্ড কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, সাইবার নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে। এছাড়া আরও এক লাখের মতো সিম মামলাসংক্রান্ত কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।
বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান বলেছেন, “নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাহকপ্রতি ১০টির বেশি সিম বন্ধ করতে হয়েছে। এর মধ্যে ৮৮ লাখের বেশি সিম কার্যত বন্ধ করা হয়েছে। বাকিগুলো বিভিন্ন মামলার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে, তবে শিগগিরই সেগুলোও বন্ধ হবে।”
সরকারি নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, গ্রাহকপ্রতি সিমের সংখ্যা ভবিষ্যতে পাঁচটিতে নামানো হবে। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কারণে এ পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
সিমসংখ্যা কমানোর কারণে মোবাইল ব্যবহারকারী ও মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে প্রায় ১৮ লাখ মোবাইল গ্রাহক ও ৬২.৬ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক কমেছে। যদিও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিচের টেবিলে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সাম্প্রতিক ধারা প্রদর্শন করা হলো:
| তারিখ | মোট মোবাইল ব্যবহারকারী (কোটি) | মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী (কোটি) | ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারী (কোটি) |
|---|---|---|---|
| জুলাই ২০২৪ | ১৯.৪২ | ১২.৭৫ | ১.৩৫ |
| জুলাই ২০২৫ | ১৮.৮৭ | ১২.১৫ | ১.৪০ |
| নভেম্বর ২০২৫ | ১৮.৭০ | ১১.৫২ | ১.৪৬ |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হ্রাসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে: সিমকার্ড কমানো, মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্য বৃদ্ধি, এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির জানান, “যখন সিমের সংখ্যা কমবে, তখন ব্যবহারকারীর সংখ্যা স্বাভাবিকভাবে কমবে। একই সঙ্গে লোকজন ব্রডব্যান্ডের সুবিধা বেশি নিতে শুরু করবে।”
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান আরও উল্লেখ করেছেন, “১০টি সিম পর্যন্ত নামালে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না, তবে পাঁচটিতে নামালে বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে এবং রাজস্ব খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
সার্বিকভাবে, দেশের মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ধারায় এ পরিবর্তন নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে এবং ভবিষ্যতে আরও পরিকল্পিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।