খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার পর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৪৫)–এর মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১টার দিকে সেনা হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে, যেখানে সেনাবাহিনীর কড়া পাহারা ছিল।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত প্রায় ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ডাবলুর মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে তাকে আটক করে সেনাসদস্যরা। পরিবারের দাবি, আটকের পর তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডাবলুর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে জড়ো হন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় মানুষ। তারা অভিযোগ করেন, ডাবলুকে আটক করার পর নির্যাতন করা হয়েছে এবং এর ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বজন উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম কাজল আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রিমন আরও অভিযোগ করেন, গত শনিবার দিবাগত রাতেও ডাবলু ও তার ভাইদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তার দাবি, একাধিক দফায় বেধড়ক মারধরের শিকার হন তারা। এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে—ডাবলুর কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান বিজিএমইএর সভাপতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নিহত ডাবলুর পরিবার বাদী হয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় মামলা করবে।
রাতভর উত্তেজনার মধ্যে শত শত মানুষ হাসপাতালের বাইরে অবস্থান নেন। বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায়, ফলে এলাকায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মরদেহ হাসপাতালের ভেতরেই সেনাবাহিনীর পাহারায় ছিল।
| সময় ও তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| রাত ১০টা | জীবননগরে ফার্মেসি থেকে ডাবলুকে আটক |
| রাত ১২:৩০ | মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে |
| রাত ১টা | সেনা হেফাজতে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত |
| রাতভর | হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ ও উত্তেজনা |
| সকাল ৯টা | মরদেহ সেনা পাহারায় হাসপাতালেই রাখা |
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।