খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তৃতীয়বারের মতো তিতাস গ্যাসের পাইপলাইনে বড় ধরনের ত্রুটি ও দুর্ঘটনা ঘটল। এবার উত্তরার টঙ্গী ব্রিজের কাছে একটি শিল্প গ্রাহকের সার্ভিস লাইনের ভাল্ভ ফেটে উচ্চ চাপে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তরার মূল পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তিতাস কর্তৃপক্ষ জানায়, টঙ্গী ব্রিজের সন্নিকটে শিল্প কারখানায় সংযোগ প্রদানকারী একটি সার্ভিস লাইনের নিয়ন্ত্রণকারী ভাল্ভটি হঠাৎ ফেটে যায়। সেখান থেকে তীব্র শব্দে উচ্চ চাপে গ্যাস বের হতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড এড়াতে তিতাস কর্তৃপক্ষ ওই এলাকার মূল ১২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনটি ‘শাটডাউন’ করে দেয়।
বর্তমানে প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত ভাল্ভটি প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু করেছেন। তবে কাজ শেষ হতে কত সময় লাগবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার ফলে উত্তরার বিস্তৃত এলাকাসহ আশেপাশের জনপদে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে রাতের খাবারের সময় এই বিপর্যয় ঘটায় হাজার হাজার পরিবার চরম বিপাকে পড়েছেন। নিম্নে ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান এলাকাগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা | বর্তমান অবস্থা |
| ০১ | উত্তরা (১-১৪ নম্বর সেক্টর) | সম্পূর্ণ বন্ধ |
| ০২ | উত্তরখান | আংশিক/সম্পূর্ণ বন্ধ |
| ০৩ | দক্ষিণখান | আংশিক/সম্পূর্ণ বন্ধ |
| ০৪ | আব্দুল্লাহপুর ও সংলগ্ন এলাকা | সম্পূর্ণ বন্ধ |
| ০৫ | টঙ্গী শিল্প এলাকা (কিছু অংশ) | সরবরাহ বিঘ্নিত |
গত এক মাসে ঢাকার গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। পাইপলাইনের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক তিনটি উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনার তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
৪ জানুয়ারি: তুরাগ নদীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া পাইপলাইন ছিদ্র হয়ে ব্যাপক গ্যাস লিক হয়। এর ফলে মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় এখনো গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ ফিরেনি।
১০ জানুয়ারি: দুপুরের দিকে গণভবনের সামনে একটি প্রধান ভাল্ভ ফেটে গেলে রাজধানীর একটি বড় অংশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। গভীর রাতে মেরামতের পর সরবরাহ চালু হয়।
১৩ জানুয়ারি: উত্তরার টঙ্গী ব্রিজের কাছে ভাল্ভ বিস্ফোরণ ও সরবরাহ বন্ধ।
শহরে বর্তমানে এলপিজি (LPG) গ্যাসের চরম সংকট চলছে। বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে পাইপলাইনের গ্যাসের এই বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে চরমে নিয়ে গেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আগাম কোনো সতর্কতা প্রদান না করায় এবং পরিকাঠামো সংস্কারে গাফিলতি করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাহকদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।