খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় ‘সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি’ গ্রহণ করেছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যেকোনও ধরনের আগ্রাসনের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে। এই বিষয়ে ফার্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির বিমানবাহিনীর কমান্ডার সরদার মুসাভি জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনী এখন পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে গত জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, যা এখন মেরামত করা হয়েছে। এছাড়া, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সামরিক উৎপাদন ক্ষমতাও সম্প্রসারিত হয়েছে। মুসাভি বলেন, “বর্তমানে আমাদের বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। যেকোনও আক্রমণের ক্ষেত্রে আমরা দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে হামলা চালালে শত্রুপক্ষের জন্য ‘অনেক চমক’ অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, “আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে এবং শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত দেশকে রক্ষা করব। আমাদের প্রতিরোধ শত্রুদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক হবে।” তিনি মার্কিন মিত্রদেরও সতর্ক করে উল্লেখ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও ধরনের হস্তক্ষেপে যারা সহায়তা করবে, তারা ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ স্থগিত হয়ে গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আপাতত বন্ধ রয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, যদি দেশটিতে হামলা হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে। সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহ ধরে দেশটিতে চলা বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির প্রেক্ষাপটে ইরান কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
নিচের সারণিতে সাম্প্রতিক সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরোধের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সামরিক প্রস্তুতি | সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষামূলক অবস্থায় বাহিনী |
| ক্ষেপণাস্ত্র মজুত | সম্প্রসারিত, পূর্বের ক্ষয়ক্ষতি মেরামত |
| সামরিক উৎপাদন | বৃদ্ধি করা হয়েছে |
| প্রতিরক্ষামন্ত্রী মন্তব্য | শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত প্রতিরোধ |
| যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যোগাযোগ | আপাতত স্থগিত |
| সম্ভাব্য পাল্টা হামলা | মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে লক্ষ্য |
এ পরিস্থিতিতে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, যদি তার সার্বভৌমত্বকে আঘাত করা হয়, তাহলে তা উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিশোধ হবে। সামরিক প্রস্তুতি, ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা, এবং উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ইরান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।