খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে সম্ভাব্য ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত আন্তর্জাতিক–বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা। তিনি অভিযোগ করেন, সরাইল উপজেলার কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের আগের রাতেই ভোট সম্পন্ন করে কেন্দ্র বন্ধ করে সিল দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষ তাঁর আত্মীয়স্বজন ও আপনজনের মতো; তাই ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার দায়িত্বও তাঁদেরই নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সরাইল উপজেলা সদরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন। কর্মী–সমর্থকদের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নষ্ট করার জন্য একটি মহল আগাম পরিকল্পনা করছে। তাঁর ভাষায়, “ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে আগের রাতে ব্যালট সিল করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে—এটা আমি কানে পেয়েছি।”
নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে সরাইল–আশুগঞ্জ এলাকায় পৌরসভা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্কুল–কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস যেন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া না হয়—এ ব্যাপারে তিনি কঠোর অবস্থান নেবেন। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে পরবর্তী নির্বাচনে তাঁকে ভোট না দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, একজন এমপি স্বতন্ত্র হোক বা দলীয়, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে শক্ত অবস্থান নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর থাকে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ থেকে বুধন্তি পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার অংশ বন্ধ করে দিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো কঠোর কর্মসূচিও নেওয়া হতে পারে।
ভোটারদের উদ্দেশে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, অসুস্থ মাকে ঢাকায় রেখে তিনি নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন এবং দলের আহ্বান উপেক্ষা করে এলাকাবাসীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটারদেরই তিনি তাঁর “ভোটের আমানতকারী” হিসেবে বিবেচনা করছেন বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে বিএনপি–জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
নিচের সারণিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের প্রার্থী ও রাজনৈতিক অবস্থান সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| প্রার্থী | রাজনৈতিক পরিচয় | অবস্থান |
|---|---|---|
| রুমিন ফারহানা | স্বতন্ত্র, সাবেক বিএনপি নেতা | ভোট কারচুপির অভিযোগ, উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি |
| মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব | বিএনপি–জোট সমর্থিত | জোটের মনোনীত প্রার্থী |