খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে মাঘ ১৪৩২ | ১৬ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইসরায়েল ভ্রমণে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তজনা যেকোনো মুহূর্তে আঞ্চলিক সংঘাতের রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগেরও পরামর্শ দিয়েছে।
জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে জারি করা এক নিরাপত্তা বার্তায় বলা হয়েছে, বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে মার্কিন নাগরিকদের যেকোনো ভ্রমণ পরিকল্পনা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের এবং পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) স্পষ্ট জানিয়েছে, অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই মুহূর্তে ইসরায়েল ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া জনবিক্ষোভ এখন সরকার পতন আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আন্দোলন দমাতে ইরান সরকারের কঠোর অবস্থানে নিহতের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে বলে দাবি করছে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো। এই অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে রেখেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির বিপরীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তেহরানের ওপর কোনো ধরণের সামরিক আঘাত এলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ এমনকি ইসরায়েলের ভূখণ্ডকেও ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই সরাসরি হুঁশিয়ারির পর থেকেই পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিচে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের অবস্থান ও ভ্রমণ নির্দেশনার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:
| দেশের নাম | জারি করা নির্দেশনার ধরণ | প্রধান কারণ |
| যুক্তরাষ্ট্র | ইসরায়েল ভ্রমণে উচ্চ সতর্কবার্তা | আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা। |
| যুক্তরাজ্য | অত্যাবশ্যক ছাড়া ইসরায়েল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা | নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস। |
| ইরান | মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে হামলার হুমকি | সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও মার্কিন হুমকির জবাব। |
| ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি | নাগরিকদের ইরান ত্যাগের পরামর্শ | ইরানের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও সম্ভাব্য যুদ্ধ। |
| স্পেন, পোল্যান্ড | জরুরি ভ্রমণ সতর্কতা | মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ। |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের পার্লামেন্টের এই চরম হুঁশিয়ারির ঠিক একদিন পরই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ইসরায়েল ভ্রমণে সতর্কতা জারির বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী এই অঞ্চলে বড় ধরণের কোনো সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে ভারত, ইতালি, স্পেন, পোল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোও তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে, যা একটি সম্ভাব্য আঞ্চলিক যুদ্ধের আগাম সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।