খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
জাতীয় ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত মামলা হিসেবে বিবেচিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রধান আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে দেওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ জানুয়ারি। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ বৃহস্পতিবার এই তারিখ ঘোষণা করেন।
মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ১৭ নভেম্বর এ মামলায় রায় ঘোষণা করে। রায়ে তিনটি ঘটনায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর তিনটি ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। আরেক আসামি, সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলায় মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা বিভিন্ন ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করে। সংক্ষিপ্তসার অনুযায়ী অভিযোগগুলো নিম্নরূপ:
| ক্রমিক | অভিযোগ | প্রধান ঘটনা | সাজা |
|---|---|---|---|
| ১ | উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান | ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ সম্বোধন | আমৃত্যু কারাদণ্ড |
| ২ | আন্দোলনকারীদের নির্মূলের নির্দেশ | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতে ফাঁসির হুমকি ও আদেশ প্রদান | আমৃত্যু কারাদণ্ড |
| ৩ | রংপুরে হত্যা | ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা | মৃত্যুদণ্ড |
| ৪ | চানখাঁরপুলে হত্যাকাণ্ড | আন্দোলনরত ছয়জনকে হত্যা | মৃত্যুদণ্ড |
| ৫ | আশুলিয়ায় হত্যাকাণ্ড | ছয়জনকে হত্যা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়া | মৃত্যুদণ্ড |
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, “আমরা আপিল দায়ের করেছি যাতে আমৃত্যু কারাদণ্ড পরিবর্তন করে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। ট্রাইব্যুনালে প্রতিটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।”
আপিলের উদ্দেশ্য, ট্রাইব্যুনালের রায়ে দেওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ডকে মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করা। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তামীম শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউটর তামীম আরও বলেন, “আমরা আপিল আর্লি হিয়ারিংয়ের জন্য আবেদন করেছি। চেম্বার আদালত আপিল শুনানির জন্য ২০ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছেন।”
মামলার এই আপিলটি দেশের রাজনৈতিক ও আইনজীবী মহলে গভীর আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি অনুযায়ী, ওই সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় শুধুমাত্র আমৃত্যু কারাদণ্ড যথেষ্ট নয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রতিটি ঘটনার প্রমাণাবলী বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং আপিল শুনানি এই প্রমাণের ওপর পুনর্মূল্যায়ন করবে।