খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভে মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে কমপক্ষে ৩,০৯০ ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএ-এর শনিবার (১৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ২,৮৮৫ জন সরাসরি বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী, এবং বাকি ১৫৫ জন সাধারণ নাগরিক ও ৫০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
মানবাধিকারকর্মীরা জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন শহরে সরকারি দমন-পীড়ণ এবং সেনা-নিরাপত্তা অভিযান চালানো হওয়ায় আপাতত বিক্ষোভ অনেকাংশে স্তিমিত হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন করে গ্রেফতার অভিযান ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
রাজধানী তেহরান ও কাস্পিয়ান সাগরের উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোর স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বর্তমানে রাস্তাঘাট তুলনামূলকভাবে শান্ত। তেহরানের আকাশে এখনও ড্রোন নজরদারি চলছে, তবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কোনো বড় ধরনের বিক্ষোভ দেখা যায়নি।
এই বিক্ষোভ শুরু হয় ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে। দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসন অবসানের দাবিতে রূপ নেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটি দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা।
ইন্টারনেট পরিস্থিতি:
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানায়, প্রায় ২০০ ঘণ্টার শাটডাউনের পর শনিবার সকাল থেকে সংযোগে সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় সংযোগ মাত্র ২ শতাংশ। বিদেশে থাকা ইরানিরা জানিয়েছে, তারা ভোরে দেশীয় ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগে সক্ষম হয়েছেন।
নিচের টেবিলে বিক্ষোভে মৃত্যুর মূল তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| শ্রেণি | নিহতের সংখ্যা | অনুপাত (%) |
|---|---|---|
| বিক্ষোভকারী | ২,৮৮৫ | ৯৩.৫ |
| সাধারণ নাগরিক | ১৫৫ | ৫ |
| নিরাপত্তা বাহিনী | ৫০ | ১.৫ |
| মোট | ৩,০৯০ | ১০০ |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সীমিত পরিসরে চালু থাকলেও সাধারণ মানুষ এখনও তথ্য আদান-প্রদানে সীমাবদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও সরকারি দমন নীতির দিকে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মানবিক সংকট এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও গভীর আকার নিতে পারে।