খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে মাঘ ১৪৩২ | ১৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরান পুরোপুরি স্বাধীন প্রযুক্তিনির্ভর ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় থাকবে দেশীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, স্বনির্মিত সার্চ ইঞ্জিন, মেসেজিং অ্যাপ এবং স্ট্রিমিং সেবা। এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো তথ্য ও যোগাযোগের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে রাখা। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও তা খুবই সীমিত হবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফিল্টারওয়াচের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরানের নতুন জাতীয় ইন্টারনেট ব্যবস্থা মূলত সরকার অনুমোদিত পরিষেবার উপর নির্ভর করবে। সাধারণ নাগরিকরা শুধুমাত্র রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সেবা ব্যবহার করতে পারবে, যেখানে তথ্য সুরক্ষা এবং নজরদারি সরকারের হাতে থাকবে।
ইরানের এই পদক্ষেপ মূলত দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এসেছে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমে সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষে রূপ নিয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিক্ষোভ সংগঠিত করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কিত উসকানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
৮ জানুয়ারি ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। স্টারলিংক ব্যবহার করে অনলাইন সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এতে সরকার জনক্ষোভ প্রশমিত করতে সক্ষম হয়। এরপর ধাপে ধাপে দেশটি বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার বাইরে সরে আসার পরিকল্পনা করছে।
ফিল্টারওয়াচের তথ্যানুসারে, নতুন ইরানি ইন্টারনেটে অন্তর্ভুক্ত হবে:
| সেবা | বিবরণ |
|---|---|
| সার্চ ইঞ্জিন | সরকার অনুমোদিত দেশীয় সার্চ ইঞ্জিন |
| মেসেজিং অ্যাপ | স্থানীয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত |
| স্ট্রিমিং সেবা | নেটফ্লিক্স অনুরূপ দেশীয় ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট |
| ন্যাভিগেশন | দেশীয় মানচিত্র ও ন্যাভিগেশন সেবা |
| আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট | সীমিত, শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদিত ব্যবহারকারীর জন্য |
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানে ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ২০০ ঘণ্টার ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলে। পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকসের মতে, এই সময়সীমা বিশ্বে সবচেয়ে দীর্ঘ সরকারের নিয়ন্ত্রিত শাটডাউনের মধ্যে অন্যতম। বর্তমান সময়েও কার্যকর কোনো আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ দেশটিতে নেই।
ইরানের এই পদক্ষেপ তথ্য সুরক্ষা ও জাতীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও প্ল্যাটফর্ম থেকে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নির্দেশ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক তথ্য প্রবাহ ও নাগরিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।