খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে মাঘ ১৪৩২ | ২০ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু নির্মাণের ৪৩ মাসের মাথায় টোল বাবদ আয় তিন হাজার কোটি টাকার সীমা ছাড়িয়েছে। ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি টাকার ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি ২০২২ সালের ২৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটি) জানিয়েছে, সেতু চালুর পর থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত টোল আয়ের পরিমাণ তিন হাজার কোটি টাকার অধিক।
সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। প্রতিদিনের গড় টোল আয় প্রায় আড়াই কোটি টাকা, আর গত ডিসেম্বর মাসে টোল আয়ের পরিমাণ প্রায় ৮২ কোটি টাকা হয়েছিল।
পদ্মা সেতু মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন টোল হার নির্ধারণ করেছে। সেতুর দুই প্রান্ত—মাওয়া ও জাজিরা—এর টোল প্লাজায় ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ (ETC) ব্যবস্থা চালু রয়েছে। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন (RFID) কার্ডের মাধ্যমে যাত্রীরা যানবাহন থামিয়ে না রেখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধ করতে পারছেন, যা যাতায়াত আরও দ্রুত ও সুবিধাজনক করেছে।
পদ্মা সেতু দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষকে রাজধানীর সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। সেতু চালু হওয়ার পর যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, এবং দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং শিল্পজাত পণ্য পরিবহনে সেতুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
টোল আয়ের সাম্প্রতিক অবস্থা নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিবরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| মোট টোল আয় (৪৩ মাসে) | ৩,০০০ কোটি টাকা |
| দৈনিক গড় যানবাহন পারাপার | ২২,০০০টি |
| দৈনিক গড় টোল আয় | ২.৫ কোটি টাকা |
| ডিসেম্বর মাসে টোল আয় | ৮২ কোটি টাকা |
| টোল থেকে সরকারি ভ্যাট (১৫%) | ৪৫০ কোটি টাকা অনুমান |
| টোল আদায়ের ঠিকাদার ব্যয় (৫ বছর) | ৬৯৩ কোটি টাকা |
পদ্মা সেতু প্রকল্প সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় ঋণ হিসেবে সেতু কর্তৃপক্ষকে অর্থ প্রদান করেছে। ঋণ ফেরত দেওয়ার চুক্তি অনুযায়ী, ৩৫ বছরে প্রতি কিস্তিতে সুদসহ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টোল আয়ের একটি অংশ সরকারি ভ্যাট ও ঠিকাদার খরচের পরে ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যবহৃত হচ্ছে, আর অবশিষ্ট অর্থ সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটির পক্ষ থেকে পদ্মা সেতুর এই ‘মাইলফলক’ অর্জনের জন্য যানবাহনের মালিক, চালক, শ্রমিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেতুর পরিচালনা সংস্থাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।