খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
রাজশাহীর বাগমারায় এক স্থানীয় ব্যবসায়ী তার নিজ দোকানে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ব্যবসায়ী গুরুতরভাবে দগ্ধ হন এবং তার মুদি দোকান সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
আহত ব্যবসায়ীর নাম আবুল কালাম, বয়স ৫৩। তিনি আউচপাড়া ইউনিয়নের মুগাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর তাকে জরুরি ভিত্তিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, আবুল কালাম এর আগেও মাত্র এক দিন আগে তার নিজ বাড়িতে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন, যা তার মানসিক চাপের চরম অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালাম তার দোকানে এসে পেট্রল ছড়িয়ে দিয়ে আগুন ধরান এবং নিজের দোকানের মধ্যে প্রবেশ করেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তিনি দগ্ধ হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। বাগমারা ফায়ার স্টেশনও ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্ধ্যা ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুঃখজনকভাবে, দোকান ও তার মালামালের প্রায় সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| আহত ব্যক্তি | আবুল কালাম, ৫৩ বছর |
| স্থান | মুগাইপাড়া মার্কেট, আউচপাড়া ইউনিয়ন, বাগমারা, রাজশাহী |
| ঘটনার ধরন | মুদি দোকানে আত্মদাহের চেষ্টা |
| সময় | মঙ্গলবার সন্ধ্যা |
| আগুনের কারণ | ব্যবসায়ীর পেট্রল দিয়ে আগুন লাগানো |
| আহত | গুরুতর দগ্ধ; রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি |
| প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ | ৬–৭ লাখ টাকা |
| ফায়ার সার্ভিসের প্রতিক্রিয়া | সন্ধ্যা ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে |
স্থানীয়রা জানান, কালামের মানসিক অবস্থা কয়েক মাস আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর থেকে খারাপ ছিল। মুগাইপাড়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাফিজ আল আসাদ জানিয়েছেন, সম্প্রতি পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিবাদের কারণে তার মানসিক চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ সাইদুল আলম নিশ্চিত করেছেন যে প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আবুল কালাম নিজেই দোকানে আগুন লাগিয়েছিলেন। পুলিশ বর্তমানে ঘটনার পেছনের পুরো প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা দৃশ্যটি ভয়ঙ্কর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এক জনের কথায়, “আগুন লাগানোর আগে কালাম দোকানের চারপাশে পেট্রল ছড়িয়েছিলেন। তারপর তিনি আগুনের মধ্যে প্রবেশ করে দগ্ধ হন।” আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ফিরোজ আহমেদও নিশ্চিত করেছেন, তিনি সরাসরি দেখেছেন যে কালাম এই কাজটি স্বেচ্ছায় করেছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কালামের অবস্থার উন্নতি ধীরগতি হবে এবং তার পুনরুদ্ধার দীর্ঘ সময় নিতে পারে।