খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
কিশোরগঞ্জের হাওর জনপদ মিঠামইনে দিনের আলোতে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বস্তায় ভরে অপহরণের এক লোমহর্ষক চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২১ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে মিঠামইন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অদূরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। প্রথম শ্রেণির দুই কোমলমতি শিক্ষার্থীকে অপহরণের এই দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা স্থানীয়দের সাহসিকতায় ব্যর্থ হলেও পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী দুই শিশু সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে তারা মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিঠামইন সদর ইউনিয়নের কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ঝিনুক আক্তার ও সুরাইয়া আক্তার যথারীতি ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিল। ঝিনুক কামালপুর গ্রামের ফারুক মিয়ার মেয়ে এবং সুরাইয়া একই গ্রামের আব্দুল হকের মেয়ে। দুপুর দেড়টার দিকে তারা মিঠামইন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী ব্যক্তি তাদের গতিরোধ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা নিমিষেই দুই শিশুর মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেয় যাতে তারা চিৎকার করতে না পারে। এরপর অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে তাদের একটি বড় বস্তার ভেতর ভরে ফেলে। ঠিক সেই মুহূর্তে রাস্তা দিয়ে কিছু লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ধরা পড়ার ভয়ে তারা বস্তাবন্দি শিশুদের রাস্তার পাশে ফেলে রেখে দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারণি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
| ক্যাটাগরি | বিস্তারিত তথ্য |
| ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী | ঝিনুক আক্তার ও সুরাইয়া আক্তার (উভয়ই প্রথম শ্রেণি)। |
| প্রতিষ্ঠানের নাম | কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। |
| ঘটনার স্থান | মিঠামইন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নিকটবর্তী এলাকা। |
| ঘটনার সময় | বুধবার দুপুর ১:৩০ মিনিট (বিদ্যালয় ছুটির পর)। |
| উদ্ধারকারী | স্থানীয় পথচারী ও এলাকাবাসী। |
| বর্তমান অবস্থা | শিশুরা সুস্থ আছে; আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত চলমান। |
কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভানু রঞ্জন বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিদ্যালয় ছুটির মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই এমন ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি দ্রুত বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানাকে অবহিত করেন। প্রধান শিক্ষক আরও জানান, এই ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি চলছে এবং বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি জানান, শিশুদের উদ্ধারের পরপরই চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সৌভাগ্যবশত তারা শারীরিকভাবে বড় কোনো আঘাত পায়নি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, অপহরণকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এই ঘটনার পর থেকে মিঠামইনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। অনেক অভিভাবক এখন তাঁদের সন্তানদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, দিনে-দুপুরে এমন ঘটনা প্রমাণ করে যে অপরাধীরা অত্যন্ত বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার এবং স্কুল চলাকালীন ও ছুটির সময়ে রাস্তায় পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
হাওর এলাকার মতো শান্ত জনপদে শিশুদের বস্তাবন্দি করে অপহরণের চেষ্টা একটি অশনিসংকেত। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক তৎপরতা না থাকলে বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারত। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন এলাকার মানুষের প্রধান দাবি, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অভিভাবককে তাঁদের সন্তান নিয়ে এমন আতঙ্কে দিন কাটাতে না হয়।