খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে মাঘ ১৪৩২ | ২৩ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে সাধারণ ছুটি সম্প্রসারণের বড় ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিনটি আগে থেকেই সাধারণ ছুটি হিসেবে নির্ধারিত থাকলেও, এবার তার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও বিশেষ কিছু সিদ্ধান্ত। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে মূলত টানা চার দিনের একটি দীর্ঘ ছুটির আবহে প্রবেশ করতে যাচ্ছে পুরো দেশ।
উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্যে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে ১১ ফেব্রুয়ারিও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা টানা ছুটির সুযোগ পাবেন। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে শিল্পাঞ্চলের জন্য। দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখা শ্রমিক ও কর্মচারীরা যাতে নাগরিক অধিকার প্রয়োগে কোনো বাধা বা যাতায়াত বিড়ম্বনায় না পড়েন, সেজন্য তাঁদের ক্ষেত্রে ছুটির পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।
এক নজরে নির্বাচনি ছুটির সময়সূচি ও পরিধি:
| তারিখ | ছুটির ধরন | লক্ষ্যভুক্ত গোষ্ঠী |
| ১০ ফেব্রুয়ারি | বিশেষ ছুটি | শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারী। |
| ১১ ফেব্রুয়ারি | সাধারণ ছুটি | সকল সরকারি, বেসরকারি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান। |
| ১২ ফেব্রুয়ারি | সাধারণ ছুটি (ভোটের দিন) | দেশের সকল স্তরের নাগরিক। |
| ১৩ ফেব্রুয়ারি | সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার) | সারা দেশ। |
প্রেস সচিব শফিকুল আলম ব্রিফিংয়ে জানান, শিল্পাঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকদের একটি বড় অংশই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে কাজ করেন। তাঁদের ভোট দেওয়ার জন্য যাতায়াতে পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন। তাই সরকার ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি এই দুই দিন শিল্পাঞ্চলের জন্য ছুটি অনুমোদন করেছে। এর ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের দিনসহ শিল্প শ্রমিকরা টানা তিন দিনের ছুটি উপভোগ করবেন। এর পরদিন শুক্রবার হওয়ায় কার্যত দেশের একটি বড় অংশ চার দিনের ছুটির সুযোগ পাচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শ্রমিক নেতারা ‘ইতিবাচক ও সময়োপযোগী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, এতে করে তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের কোটি শ্রমিকের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘ এই ছুটির সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, টানা ছুটির সুযোগে ভোটারদের বড় একটি অংশ ঢাকা ও বড় শহরগুলো ছেড়ে গ্রামে যাবেন। ফলে পরিবহন খাতে যেন অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয় এবং ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সে লক্ষে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে যেন বেতন-ভাতা নিয়ে কোনো অসন্তোষ তৈরি না হয়, সে বিষয়েও কারখানা মালিকদের বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ভোট মানেই একটি গণতান্ত্রিক উৎসব। আর এই উৎসবে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই যেকোনো সরকারের প্রধান লক্ষ্য। টানা চার দিনের এই ছুটির ঘোষণা মূলত ভোটারদের উৎসাহ দেওয়ারই একটি প্রয়াস। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, যাতায়াতের সুব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ছুটির ফলে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতির হার অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। তবে শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা যেন এই দীর্ঘ ছুটিতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে, সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের নজর রাখা প্রয়োজন।