খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে গুপ্ত হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে অবশ্যই দেশে ‘ভয়শূন্য’ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লার ওপর সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করে। দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘটিত এই হামলায় ৪২ বছর বয়সী এই নেতা গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি কেবল একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং গণতন্ত্রকামী মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়ানোর একটি গভীর ষড়যন্ত্র।
কেরানীগঞ্জের ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও বর্তমান চিত্র:
| তথ্যের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| আক্রান্ত ব্যক্তি | হাসান মোল্লা (৪২), সাধারণ সম্পাদক, হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপি। |
| ঘটনার স্থান | কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলাধীন দলীয় কার্যালয়ের সামনে। |
| ঘটনার সময় | ২২ জানুয়ারি, ২০২৬; গভীর রাত। |
| আঘাতের ধরণ | আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে জখম। |
| বিবৃতি প্রদানকারী | মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (মহাসচিব, বিএনপি)। |
| মূল দাবি | হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা। |
মির্জা ফখরুল তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর একটি বিশেষ মহল আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, “স্বৈরাচারের দোসর ও দুষ্কৃতকারীরা এখনও বিভিন্ন স্থানে ঘাঁপটি মেরে বসে আছে। তারা অরাজকতা সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। হাসান মোল্লার মতো তৃণমূলের নেতাদের ওপর এই ধরণের হামলা বড় ধরনের নাশকতার পূর্বাভাস।” তিনি অনতিবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে শঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে আগে তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হলে তারা ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর নাশকতা ঘটাতে সাহসী হবে।
বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাসান মোল্লাসহ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি সবসময়ই নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে থাকবে। তিনি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত পরিচালনা করে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে কেরানীগঞ্জের এই হামলা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মনে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে নির্বাচনের গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন মির্জা ফখরুলের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে।