খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
আফগানিস্তানের তালেবান শাসিত অঞ্চলে ‘সঠিক নিয়মে’ হিজাব না পরা, গান বাজানো এবং ব্যায়ামাগারে নারী-পুরুষ মিলিতভাবে ব্যায়াম করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া হেরাতের তরুণী তায়কোয়ান্দো কোচ খাদিজা আহমাদজাদা ১৩ দিন পর মুক্তি পেয়েছেন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, খাদিজার মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। খাদিজা হেরাত শহরের বাইরে পশ্চিমাঞ্চলের এলাকায় বসবাস করেন।
আফগানিস্তানের পাপ প্রতিরোধ ও সদ্গুণবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, “নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে খাদিজাসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিষয়টি আমাদের পরিদর্শকের নজরে আসে।” মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, খাদিজাকে আগে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু নিয়ম ভঙ্গের কারণে তাকে আটক করা হয়েছিল।
খাদিজার গ্রেপ্তারের পটভূমি এবং আফগানিস্তানের নারী খেলাধুলার পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গ্রেপ্তারের কারণ | হিজাব নিয়ম না মানা, ব্যায়ামাগারে নারী-পুরুষ মিলিতভাবে ব্যায়াম, গান বাজানো |
| স্থান | হেরাত, আফগানিস্তান |
| গ্রেপ্তারের তারিখ | ১৩ দিন আগে (নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশিত হয়নি) |
| মুক্তি | সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার |
| আফগান নারীদের খেলাধুলার অবস্থা | ২০২১ সালের তালেবান ক্ষমতা দখলের পর সব খেলাধুলা কেন্দ্র ও ব্যায়ামাগার বন্ধ, এখনও চালু হয়নি |
| আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া | জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেত্তে খাদিজার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন |
তালেবান ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর নারীদের খেলাধুলা কেন্দ্র ও ব্যায়ামাগার বন্ধ করে দেয়। ঘোষণা করা হয়েছিল, ‘নিরাপদ পরিবেশ’ নিশ্চিত হলে কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু হবে। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে এখনও কেন্দ্রগুলো চালু হয়নি, ফলে আফগান নারীরা খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না।
খাদিজার গ্রেপ্তারের খবর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেত্তে এই ঘটনার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে খাদিজার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন। খাদিজার বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা প্রকাশিত হয়নি।
খাদিজার গ্রেপ্তার ও মুক্তি বিষয়টি আফগান সমাজে নারীদের খেলাধুলা ও স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতার এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক নজরে আসে, তাতে আফগান নারীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে পুনরায় নজর দেওয়া প্রয়োজন।