খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (IDRA) সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে, যার মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে ‘জনমুখী হরতাল’ বা গণঅবস্থানজনিত ক্ষতি নন-লাইফ বীমার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। এই নির্দেশনা ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রায়ত্ত পুনর্বীমা কর্পোরেশন (SRC)-কে প্রেরণ করা হয়।
SRC, দেশের একমাত্র পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠান, ২০২৫ সালের ৩ মার্চের বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে জনমুখী হরতালজনিত ক্ষতি সাধারণ বীমা নীতির আওতায় পড়বে না। ওই সভায় বিভিন্ন বেসরকারি বীমা কোম্পানি ও জরিপ সংস্থা অংশগ্রহণ করেছিল। তবে, কার্যপ্রণালী বা দাবির নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রটোকল নির্ধারণ করা হয়নি।
বীমা খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে সিভিল বিশৃঙ্খলা বা জনমুখী হরতালজনিত ক্ষতি সাধারণত বীমার আওতায় পড়ে না। আইনগতভাবে, যদি ক্ষতির “প্রধান কারণ” জনমুখী হরতাল হয়, তবে বীমা দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না। স্ট্যান্ডার্ড ফায়ার ইন্সুরেন্স পলিসি এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অল রিস্কস (IAR) পলিসিও সিভিল বিশৃঙ্খলা কভার করে না।
IDRA নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সকল নন-লাইফ বীমা কোম্পানিকে আর জনমুখী হরতালজনিত ক্ষতি হিসেবে দাবিকে স্বীকৃতি দিতে হবে না। পরিবর্তে, কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত জরিপকারীর মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই নির্দেশনা ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের হরতালজনিত দাবির নিষ্পত্তিকে জটিল করতে পারে। জরিপ নির্ভর যাচাই প্রক্রিয়া দাবির সমাধান বিলম্বিত করতে পারে এবং প্রতারণামূলক দাবির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
SRC-এর একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, “আমরা IDRA-এর নির্দেশনা পেয়েছি। বিষয়টি বোর্ড পর্যায়ে আলোচনা করা হবে এবং আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আমাদের পূর্ববর্তী নীতি বীমা আইন ও নীতির ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে গৃহীত হয়েছিল।”
জনমুখী হরতাল বীমা কাভারের সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| প্রাসঙ্গিক সময়কাল | জুলাই–আগস্ট ২০২৪ (জাতীয় সার্টিফিকেট ২০২৫ অনুযায়ী) |
| ক্ষতির কারণ | জনমুখী হরতাল (গণঅবস্থান) |
| বীমা কভারেজ | অন্তর্ভুক্ত নয় (স্ট্যান্ডার্ড ফায়ার, IAR, বিশেষ শর্ত ৬বি) |
| IDRA নির্দেশনা | দাবিকে হরতালজনিত হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন না; লাইসেন্সপ্রাপ্ত জরিপকারীর রিপোর্ট বাধ্যতামূলক |
| সম্ভাব্য প্রভাব | দাবির জটিলতা বৃদ্ধি; প্রতারণামূলক দাবির ঝুঁকি বৃদ্ধি |
বীমা আইন ২০১০-এর ধারা ১২৭(১) অনুযায়ী, শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত বীমা জরিপকারীরা নন-লাইফ বীমার ক্ষতি মূল্যায়ন বা সমন্বয় করতে পারেন। এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উভয়ের ওপর আর্থিক জরিমানা আরোপ হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, IDRA-এর নির্দেশনা আইনি ভিত্তি প্রদান করলেও, এটি দাবির স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি দাবির যথাযথ প্রমাণাদি সংগ্রহ ও যাচাই করতে হবে, যা দেশের বীমা দাবির ব্যবস্থাপনাকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে।