খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে মাঘ ১৪৩২ | ২৬ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্ষুদ্র ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের ওপর নজিরবিহীন চাঁদাবাজি, দোকান ভাঙচুর এবং উচ্ছেদের অভিযোগে বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। রবিবার (২৫ জানুয়ারি, ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এই দাবি পেশ করা হয়। সংগঠনটি মনে করে, ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট নির্মূল করা এখন সময়ের দাবি।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচনের পর থেকেই ক্যাম্পাসে এক ভয়াবহ চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কতিপয় বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস বা প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এই চক্র পরিচালনা করছে। যারা এই সিন্ডিকেটকে নিয়মিত চাঁদা দিতে অস্বীকার করছে, তাদের দোকানগুলো ক্ষমতার অপব্যবহার করে উচ্ছেদ করা হচ্ছে এবং মালপত্র ভাঙচুর করা হচ্ছে।
ছাত্রদলের উত্থাপিত প্রধান অভিযোগ ও দাবিসমূহ:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত অভিযোগ ও প্রস্তাবিত পদক্ষেপ |
| অভিযুক্ত পক্ষ | বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধি ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তা। |
| মূল অভিযোগ | ভাসমান দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় ও ভাঙচুর। |
| অপপ্রচার রোধ | পুরনো ও খণ্ডিত ভিডিও প্রচার করে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বন্ধ করা। |
| প্রশাসনিক নীতি | দোকান পরিচালনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রকাশ। |
| চরমপত্র (আল্টিমেটাম) | ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। |
| আইনি পদক্ষেপ | দাবি আদায় না হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারি। |
আবেদনে ছাত্রদল আরও অভিযোগ করেছে যে, যখনই এসব অনিয়ম ও চাঁদাবাজির বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আসছে, তখনই সংশ্লিষ্ট ডাকসু প্রতিনিধিরা নিজেদের দায় এড়াতে অন্যান্য রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর দায় চাপাচ্ছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি প্রায় দেড় মাস আগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবং কাটছাঁট করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা যার লক্ষ্য হলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা এবং ক্যাম্পাসে একটি ‘মব’ বা সহিংস পরিবেশ সৃষ্টি করা।
সংগঠনটি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে যে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মতো হীন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ বা নৈতিক ভিত্তি নেই। ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে। যাতে কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা শিক্ষার্থী প্রশাসনের নিয়মের বাইরে হয়রানির শিকার না হন।
আবেদনে চূড়ান্তভাবে জানানো হয়েছে যে, আজ রাত ৮টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। এছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে, ছাত্রদল প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ কঠোর কর্মসূচির পথে হাঁটবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠে চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীদের ওপর নির্যাতনের এই অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগের। ছাত্রদলের এই কঠোর অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একটি বড় পরীক্ষার সম্মুখীন করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, প্রশাসন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনবে এবং ক্যাম্পাসে পুনরায় আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে দেবে।