খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শি জিনপিং বলেন, “গত এক বছরে চীন-ভারত সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে উন্নত ও বিকশিত হয়েছে। এই সম্পর্ক শুধু উভয় দেশের জন্য নয়, বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ। চীন সবসময় বিশ্বাস করে যে ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার হওয়াই চীন ও ভারতের জন্য সঠিক পথ।”
তিনি চীন-ভারত সম্পর্ককে রূপকভাবে ‘ড্রাগন ও হাতির একসঙ্গে নাচ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। শি জিনপিং আশা প্রকাশ করেন, উভয় দেশ পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করবে, এবং একে অপরের উদ্বেগ সমাধান করে সুস্থ ও স্থিতিশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে।
পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে নির্ধারিত নয়। ১৯৫০-এর দশক থেকে এই সীমান্ত এলাকা বিতর্কিত। ২০২০ সালে লাদাখ অঞ্চলে সীমান্ত সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন চীনা সেনার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং উভয় পক্ষই হিমালয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করে।
তবে গত বছর থেকে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সফরের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক নীতির প্রেক্ষাপটে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, চীন-ভারতের এই সুসম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
নিচের টেবিলে চীন-ভারতের সাম্প্রতিক সীমান্ত ও কূটনৈতিক ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সীমান্ত দৈর্ঘ্য | প্রায় ৩,৮০০ কিমি |
| সীমান্ত সংঘর্ষ | ২০২০, লাদাখ; ২০ ভারতীয় ও কয়েকজন চীনা সেনা নিহত |
| সামরিক উপস্থিতি | উভয় দেশ হিমালয় অঞ্চলে বৃদ্ধি করেছে |
| দ্বিপাক্ষিক সফর | ২০২৪-২৫, উচ্চপর্যায়ের সফর ও আলোচনার পুনরায় শুরু |
| সরাসরি বিমান চালু | ২০২৫ থেকে পুনরায় চালু |
| বাণিজ্য ও বিনিয়োগ | দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলা |
চীনা প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য ও পদক্ষেপগুলো ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছে, যা উভয় দেশের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।