খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে মাঘ ১৪৩২ | ২৭ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
তীব্র শীতপ্রবাহ ও ভয়াবহ তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে। একই সঙ্গে হাজারো ফ্লাইট বাতিল, ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়ায় দেশটির অন্তত ২৫টি অঙ্গরাজ্যে আবহাওয়া–সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
শীতের তীব্রতা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর–পূর্বাঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। নিউইয়র্ক ও ম্যাসাচুসেটসের মতো রাজ্য ছাড়াও টেক্সাস, নর্থ ক্যারোলাইনা, টেনেসি ও লুইজিয়ানা পর্যন্ত এই তুষারঝড়ের প্রভাব পড়েছে। অনেক এলাকায় একটানা তুষারপাতের ফলে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, মহাসড়কে যানবাহন আটকে পড়েছে এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষার জমেছে, আর তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। সেখানে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোচুল নিউইয়র্ক শহর ও আশপাশের এলাকায় ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন। জরুরি সহায়তার প্রয়োজন হলে বাসিন্দাদের দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ জানিয়েছেন সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। এ ছাড়া ম্যাসাচুসেটস, টেক্সাস, টেনেসি, কানসাস ও লুইজিয়ানাসহ একাধিক রাজ্যেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
তুষারঝড়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু একদিনেই দেশজুড়ে ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় বিমান চলাচল বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে বিমানবন্দরগুলোতে হাজারো যাত্রী আটকে পড়েন এবং দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। পাশাপাশি টেক্সাস থেকে ভার্জিনিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে অন্তত ৮ লাখ ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, যা ঠান্ডার মধ্যে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তুষারঝড়ের মূল বলয় ধীরে ধীরে উত্তর–পূর্বাঞ্চল থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে সরে গেলেও আর্কটিক অঞ্চল থেকে আসা অতিরিক্ত ঠান্ডা বাতাস নতুন করে পরিস্থিতি কঠিন করে তুলতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিন আরও ভারী তুষারপাত, হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা এবং কোথাও কোথাও বরফ–বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই তীব্র শীতপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে মানবস্বাস্থ্য, কৃষি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
নিচের সারণিতে তুষারঝড়–সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মোট প্রাণহানি | অন্তত ৩০ জন |
| জরুরি অবস্থা জারি | ২৫টি অঙ্গরাজ্য |
| সর্বোচ্চ তুষারপাত | প্রায় ১৮ ইঞ্চি |
| সর্বনিম্ন তাপমাত্রা | মাইনাস ১৮° সেলসিয়াস |
| ফ্লাইট বাতিল | ১১ হাজারের বেশি |
| বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন গ্রাহক | ৮ লাখ ২০ হাজারের বেশি |
| প্রভাবিত জনসংখ্যা | প্রায় ১১ কোটি ৮০ লাখ |
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এক নজিরবিহীন শীতকালীন দুর্যোগের মুখোমুখি। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছে।