খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামী থেকে সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানকে দলের সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর দলীয় সদস্য (রুকন) পদও স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত জেলার আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত সোমবার প্রকাশ করা হয়েছে।
শামীম আহসান সম্প্রতি বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনে নির্বাচনী প্রচারের সময় বিতর্কিত মন্তব্য করেন। গত শনিবার তিনি পাথরঘাটা উপজেলার কাটাখালীতে জামায়াতের প্রার্থী সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা দেন। সেখানে তিনি বলেন যে, “ডাকসুতে মাদকের আড্ডা ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভূমিকা বাংলাদেশের সকল অন্যায়, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি উৎখাত করতে সক্ষম।”
তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা মর্মাহত হন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শামীম আহসানের বক্তব্য জামায়াতে ইসলামী দলের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী, যা দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে। জেলা কর্মপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং সদস্য (রুকন) পদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন বিষয় সংক্ষেপে:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পদবী ও দায়িত্ব | বরগুনা জেলা জামায়াত সহকারী সেক্রেটারি, সদস্য (রুকন) |
| অব্যাহতির কারণ | বিতর্কিত বক্তব্য ও দলের নীতি লঙ্ঘন |
| মন্তব্যের স্থান ও সময় | কাটাখালী, পাথরঘাটা, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ |
| প্রভাব | জাতীয় সমালোচনা, দলের ভাবমূর্তিতে ক্ষতি |
| আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত | সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, সদস্য পদ স্থগিত |
| কর্তৃপক্ষ | জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন |
বরগুনা জেলার আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন প্রথম আলোকে বলেন, “শামীম আহসানের মন্তব্য আমাদের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে।”
এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পাথরঘাটা উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের আফরোজ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এই ঘটনা আগামীতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আচরণবিধি রক্ষা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন প্রভাব ফেলতে পারে।