খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেড বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, বিদেশি ও দেশীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ, ককটেল ও নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে। অভিযানে নারীসহ মোট ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এই অভিযান স্থানীয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সুসংহত করতে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান শুরু হওয়ার আগে সেনাবাহিনী ব্যাপক নজরদারি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে, যাতে কোনো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।
অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী অটো সজল এবং তার সহযোগীদের বসতবাড়ি তল্লাশি করা। অভিযান চলাকালে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অটো সজল কৌশলে পালিয়ে যান। তবে তার সহযোগী রাজু, ফারুক, জাহিদ, সজীব এবং জনিসসহ পরিবারের সদস্যদের আটক করা সম্ভব হয়। বর্তমানে অটো সজলকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তল্লাশির সময় উদ্ধারকৃত মালামাল নিম্নরূপ:
| ধরন | পরিমাণ/বিস্তারিত |
|---|---|
| বিদেশি অটোমেটিক পিস্তল (৭.৬৫ মিমি) | ২টি |
| রাউন্ড গোলাবারুদ | ৮ রাউন্ড |
| ইয়াবা ট্যাবলেট | ৫,১০৮ পিস |
| হেরোইন | ২৭০ পুরিয়া |
| দেশীয় ধারালো অস্ত্র | ১৩টি |
| নগদ টাকা | ৮,২৬,৪৩০ টাকা |
| ককটেল ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম | ৩টি |
| মোবাইল ফোন | ২০টি |
| বিদেশি মদ | ২ বোতল |
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অটো সজলের নেতৃত্বে একটি সংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিল। তারা অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাত এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাদক সরবরাহ করত। স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন ধরেই তাদের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছিল।
সেনাবাহিনী জানায়, অভিযানটি সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। এ সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আটককৃত ব্যক্তিবর্গ এবং উদ্ধারকৃত মালামাল সংস্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভবিষ্যতেও সময়োপযোগী, সংগঠিত ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত রাখবে। সেনাবাহিনী এই ধরনের অভিযানকে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেও গুরুত্ব দিচ্ছে।