খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
ভূমধ্যসাগর পারাপারের সময় গত ১০ দিনে খারাপ আবহাওয়ার কারণে একাধিক নৌকা ডুবে কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ বা প্রাণ হারিয়েছেন, জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)। সোমবারে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, “চূড়ান্ত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, যা এই রুটটিকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিবাসন করিডোরগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করছে।”
আইওএমের তথ্যানুসারে, তিউনিসিয়ার স্ফ্যাক্স থেকে রওনা হওয়া একটি নৌকা ইতালির ল্যাম্পেডুজা দ্বীপের কাছে ডুবে যায়। উদ্ধার অভিযান শেষে যাদের উদ্ধার করা হয়েছিল তাদের মধ্যে তিনজন মারা যান, এর মধ্যে এক বছর বয়সী দুই যমজ শিশু অন্তর্ভুক্ত। শিশু দুটির মা গিনি জাতীয় এবং তিনি বেঁচে গেছেন; তার তথ্য অনুযায়ী, শিশুগুলো হাইপোথার্মিয়ার কারণে মারা গেছে। একই ঘটনায় একজন পুরুষও নিহত হয়।
বেঁচে থাকা আরোহীরা জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে স্ফ্যাক্স থেকে আরও একটি নৌকা রওনা হয়েছিল, তবে সেটির আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। খারাপ আবহাওয়ার কারণে তল্লাশি অভিযানও বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া মাল্টার কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ বেঁচে থাকা আরোহীদের উদ্ধার করে, কিন্তু সেই নৌকায় থাকা ৫০ জনের ভাগ্য অজানা।
লিবিয়ার তব্রুক উপকূলে পৃথক আরেকটি নৌকা ডুবির ঘটনায় ৫১ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইওএম অভিযোগ করেছে, “সমুদ্রযাত্রার জন্য উপযুক্ত নয় এমন নৌকায় অতিরিক্ত আরোহী নিয়ে অভিবাসীদের পাচার করা একটি গুরুতর অপরাধ। ঝড়ের সময় এমনভাবে মানুষকে সমুদ্রে পাঠানো নিন্দনীয় এবং প্রাণঘাতী।”
আইওএমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মধ্যভূমধ্যসাগরে অন্তত ১৩৪০ অভিবাসন প্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছিলেন।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেখানো হলো:
| তারিখ / সময়কাল | স্থান / উৎস | নিহত / নিখোঁজ | বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|---|
| ১৮–২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | স্ফ্যাক্স, তিউনিসিয়া–ল্যাম্পেডুজা | ৩ জন নিহত (২ শিশু, ১ পুরুষ) | উদ্ধারকৃত বেঁচে থাকা মা–সন্তান; অতিরিক্ত নৌকা নিখোঁজ |
| ১৮–২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | মাল্টার কাছাকাছি | ৫০ জন নিখোঁজ/নিহত | বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধারকৃত তথ্য যাচাই করছে |
| ১৮–২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | তব্রুক, লিবিয়া | ৫১ জন নিহত আশঙ্কা | নৌকা ডুবির ঘটনা |
ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনযাত্রা এখন আগের তুলনায় আরও ঝুঁকিপূর্ণ। আইওএম পুনরায় সতর্ক করেছে যে, সমুদ্রপথে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা মানুষকে প্রাণহানির মুখে ফেলে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে নজর দেওয়া উচিত।