খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গ্রেপ্তার করেছে সিভিল এভিয়েশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানকে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে দুদকের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি চারটি মামলার সূচনা হয়েছিল। এই মামলাগুলোতে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরি জীবনের শুরু থেকেই হাবিবুর রহমান বিভিন্ন অনিয়ম এবং অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি মূলত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় বড় বড় বিমানবন্দর প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই অবস্থায় তিনি ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষভাবে কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে হাবিবুরের অবহেলা ও দুর্নীতিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ঘটনা নজরকাড়া। জমি অধিগ্রহণের সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তিনি সরকারিভাবে নির্ধারিত ৫০ কোটি টাকা জমির মূল্যের চেক ছাড়তে দেরি করেন, যা ঘুষের আশায় পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী বিলম্বের মুখে পড়ে। পরে সরকার তিনগুণ মূল্য পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিলে প্রকল্পে ১০০ কোটি টাকার লোকসান হয়।
দুদকের অভিযুক্তরা হাবিবুরকে সিভিল এভিয়েশনের দুর্নীতির ‘বরপুত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেখা গেছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নিজেকে রেহাই দিয়েছেন, কিন্তু প্রকল্পের ক্ষতি সরকারের কাঁধে এসেছে।
নিচের টেবিলে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত চারটি মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| মামলা নং | প্রকল্প | অভিযোগের ধরন | ক্ষতির পরিমাণ (প্রায়) | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| ১ | কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ | জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণ | ১০০ কোটি টাকা | তদন্তাধীন/গ্রেপ্তার |
| ২ | [প্রকল্প নাম ২] | দুর্নীতি ও সম্পদ সঞ্চয় | কোটি কোটি টাকা | তদন্তাধীন |
| ৩ | [প্রকল্প নাম ৩] | অনিয়মমূলক টেন্ডার অনুমোদন | কোটি কোটি টাকা | তদন্তাধীন |
| ৪ | [প্রকল্প নাম ৪] | সরকারি অর্থের অনিয়মিত ব্যবহার | কোটি কোটি টাকা | তদন্তাধীন |
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রমাণিত হলে তিনি সিভিল এভিয়েশনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির মামলার একজন মূল আসামি হিসেবে গণ্য হবেন। তাঁর গ্রেপ্তারের ফলে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ আরও দৃঢ় আকারে প্রকাশ পাচ্ছে।
দুদক এ বিষয়ে আরও জানিয়েছে যে, মামলাগুলোতে তদন্ত শেষ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে দ্রুত মামলা চলমান থাকবে এবং প্রকল্পের ক্ষতিপূরণের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।