খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে মাঘ ১৪৩২ | ২৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনী আমেজে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে। বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে জোটের দুই প্রধান শরীক বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। এই সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন এবং মুহূর্তেই অনুষ্ঠানস্থল এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েক শ চেয়ার ও বেশ কিছু মোটরসাইকেল।
ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর উপস্থিতিতে এই ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল এবং প্রার্থীরা মঞ্চে আসন গ্রহণ করার ঠিক আগমুহূর্তে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সামনের সারিতে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে তা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মঞ্চের সামনের সারিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে দুই দলের কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। কয়েক মিনিটের মধ্যে স্টেডিয়ামজুড়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় সভামঞ্চের প্যান্ডেল, কয়েক শ চেয়ার এবং স্টেডিয়ামের পাশে পার্ক করে রাখা নেতা-কর্মীদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে এবং পুরো অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়।
নিচে সংঘর্ষের ক্ষয়ক্ষতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| ক্ষতির বিবরণ | আনুমানিক পরিমাণ / সংখ্যা |
| আহতের সংখ্যা | ৩০ জন (উভয় পক্ষ মিলিয়ে) |
| আসন ভাঙচুর | প্রায় ৩৫০-৪০০টি প্লাস্টিক চেয়ার |
| মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত | ৫-৭টি |
| চিকিৎসাধীন কেন্দ্র | ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর সদর হাসপাতাল |
| আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি | পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল |
সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা জানান, বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও তা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের সরাসরি ফোনে পাওয়া না গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা একে অপরকে দায়ী করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল দাবি করেন, এটি ছিল বিএনপির সমর্থকদের একটি পরিকল্পিত হামলা। অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন যে, জামায়াত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অনুষ্ঠানটি ভণ্ডুল করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি সুন্দর আয়োজন এমন সহিংসতার কারণে নষ্ট হওয়া দুঃখজনক। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই সংঘর্ষ স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে।