খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
ময়মনসিংহের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ‘ভুলবশত’ একটি হত্যা মামলার তিন আসামিকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা গোটা জেলা প্রশাসন এবং কারা ব্যবস্থাকে চাঞ্চল্যকর করেছে। এই ঘটনায় কারাগারের ডেপুটি জেলা কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মুক্তিপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন:
আনিস মিয়া
রাশেদুল
মো. জাকিরুল
তারা তারাকান্দা উপজেলার একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে তারা জামিন ছাড়া কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে এই তথ্য সর্বসাধারণের সামনে আসে বৃহস্পতিবার।
ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে দায়ী হিসেবে ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই দিনে ঢাকা বিভাগ-২-এর ডিআইজি প্রিজন্স টিপু সুলতানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ময়মনসিংহের সিনিয়র জেল সুপার আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “কারাগারের এক কর্মকর্তা অনিচ্ছাকৃতভাবে আসামিদের মুক্তি দিয়েছেন। এটি সম্পূর্ণ ভুলবশত ঘটেছে।”
ময়মনসিংহ বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, মূল সমস্যা ছিল প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট বা হাজিরা পরোয়ানাকে ভুল করে জামিননামা হিসেবে গ্রহণ করা। “ডেপুটি জেলার অসতর্কতার কারণে এই ভুল হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। যেকোনও প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” তিনি জানান।
নিচের টেবিলে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তথ্যের বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার |
| মুক্তিপ্রাপ্ত আসামি | আনিস মিয়া, রাশেদুল, মো. জাকিরুল |
| মামলার ধরন | হত্যা মামলা |
| মুক্তির তারিখ | মঙ্গলবার, জামিন ছাড়া |
| ঘটনার প্রকাশ | বৃহস্পতিবার |
| দায়ী কর্মকর্তা | ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজ (সাময়িক বরখাস্ত) |
| তদন্ত কমিটি প্রধান | ডিআইজি প্রিজন্স, ঢাকা বিভাগ-২, টিপু সুলতান |
| কমিটিকে রিপোর্ট সময় | ৩ কার্যদিবস |
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন এবং কারা বিভাগ সতর্ক হয়ে আরও কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নির্ধারণে তদন্ত শেষ হলে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পুনরায় এমন ঘটনা এড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।