খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কিউবার বিরুদ্ধে একটি কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বাণিজ্য মহলে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের এই নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো কিউবায় জ্বালানি তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর বিশেষ শুল্ক আরোপ করা। এর মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিনের বৈরী দেশ কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা করার কৌশল গ্রহণ করেছেন। মূলত কিউবার জ্বালানি নিরাপত্তার পথ রুদ্ধ করে দেশটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়াই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার আওতায় একটি বিশেষ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। যদিও এই আদেশে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম বা শুল্কের সঠিক হার উল্লেখ করা হয়নি, তবে এটি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি রক্ষার একটি অপরিহার্য অংশ বলে তিনি দাবি করেছেন। ট্রাম্পের মতে, কিউবা সরকারের ‘ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড’ প্রতিহত করতেই এমন কঠোর জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
কিউবার জ্বালানি সংকট ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| আদেশের ভিত্তি | জাতীয় জরুরি অবস্থা ও বিশেষ নির্বাহী আদেশ |
| মূল লক্ষ্য | কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশ ও প্রতিষ্ঠানসমূহ |
| উদ্দেশ্য | কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা |
| সরাসরি প্রভাব | বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা খাত |
| সংশ্লিষ্ট অঞ্চল | ভেনেজুয়েলা, রাশিয়া ও মেক্সিকোর মতো সরবরাহকারী দেশসমূহ |
ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াস-কানেল তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি মার্কিন সরকারের এই যুক্তিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “এই পদক্ষেপ একটি ফ্যাসিবাদী ও অপরাধমূলক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ, যা কেবল ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য মার্কিন জনগণের স্বার্থকে জিম্মি করছে।”
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার বিশ্বব্যাপী নিন্দিত অবরোধ নীতিতে অন্য দেশগুলোকে জোরপূর্বক শামিল করতে ‘ব্ল্যাকমেইল’ এবং ‘জবরদস্তি’র আশ্রয় নিচ্ছে। এটি মুক্ত বাণিজ্য নীতির পরিপন্থী বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কিউবা ইতিমধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই নতুন শুল্ক নীতির ফলে যদি জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়, তবে দ্বীপরাষ্ট্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে যাবে এবং জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। মূলত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে শ্বাসরুদ্ধ করার এক ভয়াবহ পরিকল্পনা হিসেবে একে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নিকোলাস মাদুরোর আটকের ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও উৎসাহিত হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল ও অর্থের প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় কিউবা এখন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং খুব শিগগিরই দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে পররাষ্ট্র নীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে শুল্ক বা ট্যারিফকে একটি শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর আগে চীন এবং মেক্সিকোর বিরুদ্ধেও তিনি একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। কিউবার ক্ষেত্রে এই নীতি কার্যকর হলে তা লাতিন আমেরিকার সামগ্রিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।